বাংলাদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে আদালত অবমাননার দায়ে সাজা দেয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি প্রদানকারী ৪৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে ক্ষমা করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বাকিদের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
গত ২ ডিসেম্বর আদালত অবমাননার দায়ে ডেভিড বার্গম্যানকে আদালত চলাকালীন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ট্রাইব্যুনাল। এ সাজার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেন ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গত ২০ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বার্গম্যানের সাজায় ৫০ নাগরিকের উদ্বেগ’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়। পরে মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বিবৃতি থেকে তার নাম প্রত্যাহার করেন।
এরপর ট্রাইব্যুনাল বিবৃতিদাতা ৪৯ জনের কাছে তাদের বিবৃতির ব্যাখ্যা চান। বিবৃতিদাতার মধ্যে ১৪ জন ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তারা হলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান ও রাশেদা কে চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, আসিফ নজরুল, শাহনাজ হুদা ও আমেনা মহসীন, বাংলাদেশ শিশু বিকাশ কেন্দ্রের জাতীয় সমন্বয়ক নায়লা জামান খান, সংগীত শিল্পী অরূপ রাহী, লেখক শাহীন আখতার এবং মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন ও ইলিরা দেওয়ান। গতকাল তাদের নিঃশর্ত ক্ষমার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বাকিদের বিষয়ে শুনানি হবে ৩ মার্চ।