প্রথমে ৩৭৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামে জিম্বাবুয়ে। তবে দলীয় ১৮ রানের মাথায় ম্যাচ বৃষ্টি বিঘ্নিত হওয়ায় ৪৮ ওভারে লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয় ৩৬৩ রান। জিম্বাবুয়ে সব উইকেট হারিয়ে ৪৪ ওভার তিন বলে সংগ্রহ করেছে ২৮৯ রান। অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায় ৭৩ রানে। এর আগে গেইলের ঝোড়ো দ্বিশতক ও স্যামুয়েলসের শতকে ভর করে রানের পাহাড় গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। টিনাশে পানিয়াঙ্গারার করা প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে যান ডোয়াইন স্মিথ।
শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত গেইল-স্যামুয়েলসের বিশ্বরেকর্ড জুটিতে ভর করে ৩৭২ রানের বিশাল ইনিংস গড়ে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিস গেইল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান হিসেবে ডবল সেঞ্চুরি হাঁকান। গেইলের ২১৫ রানের ইনিংসে ১৬টি ছক্কা ও ১০টি চারের মার ছিল।
গেইল ১৩৮ বল খেলে দুইশত রান পূর্ণ করেন। প্রথমে রানের চাকা ধীরে চললেও মাত্র ৩৩ বল খেলে পরের শত রান তুলে নেন তিনি। এর আগে গেইল ১০৫ বল খেলে তার ক্যারিয়ারের ২২তম শত রানের কোটা পূর্ণ করেন। এ সময় নয় হাজারি ক্লাবেও নাম লেখান এ বাঁহাতি ওপেনার।
আর মারলন স্যামুয়েলস তার ক্যারিয়ারের সেরা অপরাজিত ১৩৩ রান করেন। স্যামুয়েলসের ইনিংসে ১১টি চার ও ৩টি ছ্ক্কার মার ছিল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ করে ৩৭২ রান। যা চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের যে দুটি উইকেট পড়েছে, তার একটি নিয়েছেন পানিয়াঙ্গারা, অন্যটি হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।
জিম্বাবুয়ে ইনিংস শুরু করার পর দলীয় ১১ রানের মাথায় দুই রান সংগ্রহ করে অউট হয়ে যান রেগিস চাকাবভা। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা।
২৬ রান সংগ্রহ করে সিকান্দার রাজা, ৫ রানে মাসাকাজ্জা সাজঘরে ফিরে যান। কিন্তু চতুর্থ উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জিম্বাবুয়ে। এসময় দলের স্কোরশিটে ৮০ রান যোগ করেন ব্রেন্ডন টেলর ও শন উইলিয়ামস। এই জুটিতে আঘাত হানেন স্যামুয়েলস। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে টেলরকে উইকেট রক্ষক দিনেশ রামদিনের তালুবন্দি করান তিনি। টেলরের ৩৭ রানের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কার মার। এরপর ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যান শন উইলিয়ামস।
কিন্তু ব্যক্তিগত ৭৬ রানের মাথায় হোল্ডারের শিকার হন। এরপর অর্ধশত রান তুলে নেন আরভিনও। কিন্তু ক্রিস গেইলের বলে সরাসরি বোল্ড হওয়ায় ৫১ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এ ছাড়া মাতসেকেনেরি করেছেন ১৯ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৩টি করে উইকেট পকেটে পুরেছেন জেরম টেলর ও জেসন হোল্ডার। ক্রিস গেইলের ভাণ্ডারে জমা পড়েছে ২টি উইকেট। নিকিতা মিলার ও মারলন স্যামুয়েলসের দখলে গেছে ১টি উইকেট।