পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় একসঙ্গে ছয় বান্ধবী ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এদের মধ্যে পূজা নায়েক নামের একজন বাদে পাঁচজনই মারা যায়। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তদন্তের পর বলছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
পূজাসহ আত্মহত্যা করা প্রত্যেকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গ্রামের মেলায় প্রেমিকদের সাথে একসঙ্গে ঘুরতেও দেখা গিয়েছিল তাদের। তা নিয়েই গ্রামবাসীর বাঁকা কথা আর বাড়ির লোকের বকাবকির কারণেই ওই ছয় কিশোরী এক সঙ্গে কীটনাশক খেয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ দাবি করেছে ।
সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের কাছের একটি পুকুর পাড়ে একসঙ্গে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ওই ছ’জন কীটনাশক খায়। রাতেই মারা যায় নমিতা নায়েক (১৭), পালং নায়েক (১৬), সরস্বতী নায়েক (১৫), বুড়ু নায়েক (১৪) ও বেবি নায়েক (১৩)। একমাত্র প্রাণে বেঁচে যায় ১৫ বছর বয়সী পূজা নায়েক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেমে বাধা পেয়ে যুগলের আত্মহত্যার ঘটনা বিরল নয়। তবে ছয় বান্ধবী একসঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, এমন ঘটনা জেলাটির কেউই মেনে নিতে পারছেন না। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ বলেন, 'ছ’জনেরই বয়স অল্প। অভিভাবকেরা ওদের শাসন করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।'
পুলিশের দাবি, পূজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, তাদের সকলেরই প্রেমিক ছিল। শিবরাত্রির মেলায় তারা দেখাও করেছিল। গ্রামের কিছু লোক তা দেখে বাড়িতে খবর দেয়। তার পর থেকে বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। অভিভাবকেরা তাদের বকাবকি করেন। জানিয়ে দেন, এই সব সম্পর্কে তাঁদের সম্মতি নেই।
তাদের কারো প্রেমই পরিণতি পাবে না ধরে নিয়ে ছয় জনই একসাথে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে পূজা পুলিশকে জানায়।
সে আরো জানায় আত্মহত্যার কয়েক দিন আগেই শিবরাত্রির মেলায় প্লাস্টিকের বাটি সংগ্রহ করেছিল তারা। সোমবার সন্ধ্যায় সেই বাটিতেই কীটনাশক ঢেলে সকলে মিলে একসঙ্গে চুমুক দেয়। আত্মহত্যার আগে ওড়নার দিয়ে পরস্পরের হাতও বেঁধে নিয়েছিল ছয় বান্ধবী। পূজা অবশ্য বিষের বাটি শেষ না করেই পালিয়ে আসে। তাতেই বেঁচে যায় সে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে রাতেই পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। সূত্র: আনন্দবাজার