ওয়াসার পানিতে চোখ জ্বলে ফুটালেও যায় না দুর্গন্ধ

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পানিতে ফের দুর্গন্ধ ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। রীতিমতো ফুটিয়েও পানি থেকে দুর্গন্ধ দূর করা যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় পানি দিয়ে গোসলও করা যাচ্ছে না। পানি চোখে লাগলেই চোখ জ্বালা-পোড়া করছে। এতে বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।

রাজধানীর মগবাজার, যাত্রাবাড়ি, ওয়ারী, গোপীবাগ, গেন্ডারিয়া, পশ্চিম কাওরান বাজারের গার্ডেন রোড, শশী মোহন বসাক লেন, বনগ্রাম, মৈশুন্ডি, সুত্রাপুর, ধোলাইখাল, অভয়দাস লেন, স্বামীবাগ প্রভৃতি এলাকায় ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ফ্যানাযুক্ত কালচে বা সবুজ বর্ণের পানি সাংসারিক কোন কাজে আসছে না।
গেন্ডারিয়ার গৃহবধূ নাজমা আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, ‘গরম আসতে না আসতেই পানি সংকট আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ভোর রাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কিছুটা পানি ওয়াসার লাইনে আসলেও তাতে তীব্র দুর্গন্ধ। ফুটানোর পর পাত্রের তলায় কালো গাদ জমা হচ্ছে। ফলে পানি পান করা সম্ভব হচ্ছে না।’ গার্ডেন রোডের বাসিন্দা তাছলিমা হোসেন জানান, ‘পানি চোখে লাগলেই চোখ জ্বালা-পোড়া শুরু করে। এমনকি অনেক সময় নাক পর্যন্ত জ্বলে। আমরা ওয়াসার কাছ থেকে বিশুদ্ধ পানিই আশা করি।’
এ ব্যাপারে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, সায়দাবাদ পানি শোধনাগারের সরবরাহ করা পানিতে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে পানি কিছুটা ঝাঁঝালো হয়ে পড়েছে। তবে শিগগিরই সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চলছে। 
পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ইত্তেফাককে বলেন, ওয়াসা শতকরা ১৩ শতাংশ পানি নদী থেকে সংগ্রহ করে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি সংগ্রহ করা হয় তাতে পানি বিশুদ্ধ হয় না। এছাড়া পানি বিশুদ্ধ করতে অনেক সময় ওয়াসা অতিমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে। যার কারণে পানি দুর্গন্ধ হয়। দূষিত পানি চোখে লাগলে চোখ জ্বালা-পোড়া করে।
তবে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ইত্তেফাককে বলেন, সঠিকভাবেই পানি বিশুদ্ধ করা হয়। কিন্তু মেইন লাইন ছিদ্র করে পানি চুরির কারণে পানিতে ময়লা প্রবেশ করছে। এছাড়া বাসা-বাড়িতে যে ট্যাংকি রয়েছে তা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার কারণে পানিতে দুর্গন্ধ হতে পারে। পানি পরিশোধনে অতিমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলেও এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।