যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটেছে। বেনইয়ামিন অভিযোগ করেছেন, ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম থেকে বিরত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ ইস্তফা টেনেছেন। বৃহস্পতিবার বিবিসির অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
আগামী সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহুকে ভাষণ দেওয়ার জন্য রিপাবলিকান নেতাদের আমন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের ক্রোধান্বিত করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের অবনতির জন্য একটি দলের ভূমিকা রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস বলেছেন, নেতানিয়াহুর সফর দুই দেশের মধ্যকার ‘দৃঢ় সম্পর্ককের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে।’
বুধবার পশ্চিম তীরে নিজের সমর্থকদের সামনে বক্তৃতা দেবার সময় ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বনেতাতেদর অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করেন বেনইয়ামিন।
তেহরানের পরমানু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইসরাইলের জন্য হুমকি; তাই, এটিকে বন্ধ করতে যে কোনোকিছুই তিনি করবেন বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, ইরান যদি পারমানবিক অস্ত্রে সমৃদ্ধ হতে চায় তাহলে এর বিপক্ষে আপত্তি জানাতে যা করা দরকার আমি এর সবই করবো। ইরানের এই কর্মসূচি আমাদের জন্যই নয়, আমার প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার জন্যই হবে বিপজ্জনক।
ইরানের পরমানু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বনেতারা একটি আলোচনা চালাচ্ছেন এবং কিছু শর্তে ইরানের উপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবা হচ্ছে।
এই আলোচনাকে ইঙ্গিত করেই এমন মন্তব্য করেছেন ইসরায়লি প্রধানমন্ত্রী। কারণ ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে তিনি রাজি নন।
কিন্তু ইরান বিষয়ক আলোচনা নিয়ে নেতানিয়াহু যা ভাবছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন জন কেরি।
তিনি এখানে বলছেন, ইরানের পরমানু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির বিস্তার বন্ধ করতে আমরা ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছি এবং তাদেরকে যে সময় দিয়েছি এর ফলে ইসরাইল এখন আগের চেয়ে আরো বেশি নিরাপদ। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এর বিরোধিতা করছেন। কিন্তু তিনি ভুল।