মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ৪০৯ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা!
বলা যায়, রান এগিয়েছে ঝড়ের গতিতে! দি ভিলিয়ার্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রান আসলেই এগুচ্ছে ঝড়ের গতিতে। একের পর পর বল গিয়ে পড়ছে গ্যালারিতে। ৪৯.৪ ওভার শেষে দলীয় রান ৪শ অতিক্রম করে। ইনিংসের শেষ বলেও ৬ হাকিয়ে অপরাজিত থেকে দলীয় রান নিয়ে যান ৪০৯-এ। তার ব্যাক্তিগত রান ১৬২, যা করেছেন মাত্র ৬৬ বলে। বল হিসেবে তার রান প্রায় আড়াইশত শতাংশ। তার সঙ্গী ব্যাটসম্যান ফারহান বেহরিদিয়েন ব্যাট করতে নেমে যেন খেলার সুযোগই পাননি। তবু যতটুকু পেয়েছেন কাজে লাগিয়েছেন তিনি। বেহরদিয়েন মাত্র ৫ বল খেলে ব্যক্তিগত রান করেছেন ১০। ৪৭ ওভারের দ্বিতীয় বলে একটি ছয় হাকিয়ে মাত্র ৫১ বল খেলে শততম রান পূরণ করেন ভিলিয়ার্স। এরপর যেন সত্যিকার অর্থে ঝড় ওঠে তার ব্যাটে। খেলার ৪৭ তম ওভার থেকে একেবারে রকেটের গতিতে দলের রান তুঙ্গে নিয়ে যান দি ভিলিয়ার্স।
যাকে বলে “হাইভোল্টেজ ম্যাচ”! দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলাকে তাই বলা যায়। এবারের বিশ্বকাপের ১৯তম ম্যাচে পুল বির মাঠে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন হাশিম আমলা এবং কুইন্টন ডি কক।
শুরুর বলটি দেখে শুনে ছেড়ে দিয়ে পরের বলে চার কুইন্টন ডি কক। বোলার জেসন হোল্ডারের প্রথম ওভারে ৮ রান নিয়ে দলের রানের সূচনা করেন কুইন্টন।
তবে শুরুর ওভারে দর্শকের এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকদের মনে আনন্দবন্যা যেভাবে বইছিল তার তোড় কমে যেতে শুরু করে পরের ওভার দুটোতে। কারণ জেরোমি টেইলর তার পরের ওভারে কোন রান দেয়নি।
তার পরের ওভারটিও কোন রান ছাড়া কেটে যায়।
৫.৪ ওভারে দলীয় ১৮ রানের মাথায় হোল্ডারের বলে রাসেলের হাতে ক্যাচ তুলে মাত্র ১২ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন কুইন্টন ডি কক। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন ফাফ দু প্লেসিস।
প্রথম উইকেটের পতনের পর রক্ষণশীল খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঢিমে তালের ব্যাটিং চলতে থাকে আমলা আর প্লেসিসের। অন্যদিকে প্রথম ওভারটিকে যেন শিক্ষা হিসেবে নিয়ে বোলিং আর ফিল্ডিং কড়া করে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২৯.১ ওভারে আরেকটি উইকেটের পতন হয় দক্ষিণ আফ্রিকার! ক্রিস গেইলের বলে উইকেট কিপার রামদিনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান প্লেসিস তার ব্যক্তিগত ৬২ রান নিয়ে। মাঠে নামেন নতুন ব্যাটসম্যান রিলি রসৌ। রিলির সঙ্গে জুট বাধা হয় না হাশিমের। গেইলের ঠিক পরের বলেই এলবিডব্লিউ নিয়ে তিনিও প্লেসিসের অনুসারী হন। মাঠে তার জায়গা নিতে আসেন আব দি ভিলিয়ার্স।
৪২.১ ওভারে রসৌ মাঠ ছাড়েন রাসেলের বলে রামদিনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। তার জায়গা নিয়ে মাঠে নামেন ডেভিড মিলার। ৪৬.৩ ওভারে দলীয় ৩২৮ রানের মাথায় জোরেশোরে ব্যাট হাকিয়েছিলেন মিলার। বল শূন্যে উড়ে বাউন্ডারি প্রায় পার হচ্ছিল। এমন সময় একহাতে বলটি লুফে নিয়ে দুর্দান্ত একটি ক্যাচ ধরে মিলারকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন টেইলর। বলে ছিলেন রাসেল। এবার ভিলিয়ার্সের সঙ্গে জুটি বাধতে মাঠে প্রবেশ করেন ফারহান বেহারদিয়েন।
বেহারদিয়েন আসার পর তাকে রান করার কোন সুযোগ না দিয়ে হাত খুলে পেটানো শুরু করেন দি ভিলিয়ার্স। একের পর এক চার আর ছয় বের হতে থাকে তার ব্যাট থেকে। দেখতে দেখতে রান সাড়ে তিনশ পেরিয়ে যায়। তারপরের অংশটি সত্যিকার অর্থে ইতিহাস হওয়ার মতো।