অভিজিৎ হত্যা

খুনিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

লেখক-ব্লগার অভিজিত্ রায়কে হত্যা এবং তার স্ত্রী রাফিদা বন্যার ওপর হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাদের পরিবার ও বিক্ষুব্ধ ছাত্র-শিক্ষক, নাগরিক এবং বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলেছেন, হত্যা-হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা বাংলাদেশকে অস্বীকার করে। তারা পরাজিত হবেই। দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে অশুভ শক্তির পরাজয়কে ত্বরান্বিত করতে হবে। নইলে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ হবে না।
শুক্রবার দিনভর পৃথক কর্মসূচিতে অভিজিৎ হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। সকল কর্মসূচিতেই হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের দাবি জানানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ততাকে দায়ী করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকের সামনে হামলার শিকার হন ব্লগার অভিজিত্ রায় ও তার স্ত্রী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় অভিজিত্ মারা যান। তার স্ত্রীও গুরুতর আহত।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদী ছাত্র শিক্ষক ও নাগরিকের ব্যানারে ক্ষুব্ধ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ হামলা শুধু অভিজিতেদর ওপর হামলা নয়, মুক্তচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চারিত তারুণ্যের ওপর আঘাত। হামলা মোকাবেলায় মুক্তচিন্তারসকল নাগরিকদের সংগঠিত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দানবদের প্রতিহত করতে হবে।
সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান থাকায় এ ধরণের পৈশাচিক হামলা বন্ধ হচ্ছে না। জঙ্গীবাদী গোষ্ঠীর আস্ফাালন বন্ধ হচ্ছে না। যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদী শক্তির বিচার অসমাপ্ত থাকায় দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সহিংসতার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুলিশ প্রায়ই দুই-তিন স্তরের নিরাপত্তার কথা বলে। কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা কোন স্তরে থাকে, তারা কি তা জানে না? তিনি সর্বস্তরের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গীবাদ-মৌলবাদকে প্রতিহত করার আহবান জানান।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম  বলেন, অভিজিতের ওপর আঘাতের প্রতিঘাত দিতে হবে।
প্রবীণ রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা শুধু যুদ্ধ ঘোষণাই নয়, বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী দেশ করতে চায়। আমরা এটি চলতে দিতে পারি না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, নিয়মিত বিরতিতে এ হামলা জাতীয় চেতনা ও নিরাপত্তার প্রতি বড় হুমকি। অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পরাজিত হবেই। যত দ্রুত সম্ভব এদেরকে প্রতিহত পরাজিত করতে হবে।
কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দেশ প্রগতিশীল চিন্তার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এ ধরণে বিভত্স হত্যাকান্ড যে কোনো উপায়ে প্রতিহত করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, দেশে হত্যার রাজনীতির মধ্য দিয়ে কেউ ক্ষমতায় থাকতে চায়, আর কেউ ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু হত্যাকারীর বিচার কেউ করে না। রাজনীতির এই হত্যার খেলার বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত হতে হবে।
হামলার প্রতিবাদ ও খুনী-সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল এবং রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ-মানববন্ধন করে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী। সন্ধ্যায় অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদের উপর হামলা দিবস এবং অভিজিত্ রায়ের হত্যার প্রতিবাদে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে এক জঙ্গীবাদ বিরোধী আলোর মিছিল বের করে ছাত্রলীগ।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ। মানববন্ধনশেষে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, জঙ্গিবাদী মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এদেরকে এখনই ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে। না হলে কারও রক্ষা পাবার উপায় নেই। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এ কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন জীবনানন্দ জয়ন্ত, সনাতন মালো।