পেট্রোল বোমার আগুনে ঝরে গেল আরও দু’টি প্রাণ। দীর্ঘ ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন শ্রমিক লুত্ফর রহমান (৩৫)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।
এদিকে বগুড়ায় অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হওয়ার এক মাস পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় ট্রাক চালকের এক সহকারী মারা গেছেন। নিহত জাহাঙ্গীর (৩০) বগুড়ার কাহালু থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক দু’টি মৃত্যুর খবরই নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শ্রমিক লুত্ফর রহমানের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুমিরাভিটা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রহমান। নিহত লুত্ফর রহমানের ভাগিনা আনোয়ার হোসেন জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে তার মামা মৌলভীবাজার থেকে বাসযোগে ঢাকায় আসছিলেন। রাত ২টার দিকে বাসটি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারে। এতে তার মামা দগ্ধ হন। তিনি জানান, তার মামা লুত্ফর রহমান মৌলভীবাজারে থাকতেন। সেখানে তিনি কখনও কৃষিকাজ আবার কখনও রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয় বলে পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান। বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধের মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকায় পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হন ট্রাক চালক মাসুদ (৩৫) ও তার সহকারী জাহাঙ্গীর (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই রাতেই তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। খালি ট্রাক নিয়ে রাতে গাবতলী উপজেলার সৈয়দ আহম্মেদ স্টেশন থেকে চারমাথা হয়ে কাহালু যাওয়ার পথে তারা নাশকতার শিকার হয়েছিলেন। দগ্ধ চালক মাসুদ এখনও ঢাকা মেডিক্যালে চিকিত্সাধীন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের চলমান অবরোধে গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও আগুনে পুড়ে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।