উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদন

রাজনৈতিক অস্থিতিরতায় রাজস্ব আয় কমতে পারে

         
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’এর এক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চিয়তার কারণে চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের সাথে লক্ষ্যমাত্রার পার্থক্য বিগত অর্থবছরগুলোর তুলনায় বেড়ে যাবে। যা সরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করবে। সামাজিক খাতের ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এনবিআর ৫৯ হাজার ৬৩ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার মাত্র ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
জাতীয় নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার অর্থবছরগুলোতে রাজস্ব আদায়ের সাথে লক্ষ্যমাত্রার পার্থক্যের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখায় যে, বর্তমান অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সাথে লক্ষ্যমাত্রার সম্ভাব্য পার্থক্য হতে পারে ৩৪ হাজার কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে আয়কর খাতে প্রকৃত আদায় এবং লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য হতে পারে। যা এই অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বৃহত্ খাত বলে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমান অর্থবছরে এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও শ্লথগতি পরিলক্ষিত হয়। জুলাই’১৪-অক্টোবর’১৪ সময়ে এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১৪০৭ কোটি টাকা। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫৭২ কোটি টাকা থেকে অনেক কম।
প্রতিবেদনে আর বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার বিপরীতে জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৭২৭৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে ১১ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা ছিল। অর্থাত্ এই সময়ে কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয়ের পরিমাণ ২৭ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের মাত্র ৩২ শতাংশ। এ অবস্থায় অর্থনীতির স্বার্থে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। রাজস্ব আদায়ে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় রেখে পরোক্ষ করের ওপর অতি নির্ভরশীলতা কমানো এবং কর ফাঁকি ও কর এড়ানো বন্ধ করতে জোর তত্পরতা চালাতে হবে।