বিয়ের পিঁড়িতে ১৪ শর্ত, শ্রীঘরে বর

 
 
বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। কোথাও শাঁখ বাজছে, কোথাও উলু ধ্বনি। বিয়ের পিঁড়ি পাতা হয়েছে, মন্ত্র পড়াও শুরু হয়ে গেছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যে চার হাত এক হলো বলে। কিন্তু তখনই বিপত্তি বাঁধালেন বর।
কনের বাবার দিকে কোর্টের কাগজ এগিয়ে দেন বর। জানান, ‘নোটারি করা চুক্তিপত্র’। সেখানে চোখ বুলিয়ে কনের বাবার চোখ তো ছানাবড়া। একটি-দুইটি নয়, ১৪টি শর্ত দিয়েছেন বর। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে নদীয়ার হাঁসখালি থানার গাজনা মধ্যপাড়ায়।
বরের দাবি, বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই কনের তরফে চুক্তিপত্রে সই করে দিতে হবে। চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো, কোনো ঝামেলা বা অশান্তি হলে কোনো পক্ষ থানায় অথবা আদালতে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করতে পারবে না। যতই কনের বাড়ির লোক, পাড়ার ছেলেরা বোঝান, এমন চুক্তি করা যায় না, বর কোনো কিছু কানে তুলতে নারাজ।
এদিকে বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যায় যায়। দেখে শুনে খেপে ওঠে ১৬ বছরের কনে।  সে জানায়, ‘লগ্নভ্রষ্ট হতে হলে হব। কিন্তু যে বিয়ের আগে যে শর্ত দেয়, তার ঘর করবই না। তাতে আমার জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে।’
এরপরই বরকে তুলে দুই চার ঘা দিয়ে পাশের ঘরে তালাবন্দী করা হয়। বেগতিক বুঝে বরযাত্রীরা সরে পড়েন। তবে আটকা পড়ে যান বরের এক বন্ধু ও খুড়তুতো দিদি-জামাইবাবু। বিয়ের আয়োজনে যে খরচ হয়েছে, ক্ষতিপূরণ বাবদ তা দেয়ার দাবি জানিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে বরকে আটক করে। সূত্র: আনন্দবাজার।