চলমান পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য গুরুতর বাধা: অর্থমন্ত্রী

চলমান পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য গুরুতর বাধা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এটা একটি জাতীয় সমস্যা। আবার জাতীয় সমস্যা বলতেও ভয় করি। জাতীয় সঙ্কট অনেক বিরাট বিষয়। বিষয়টি অত বিরাট নয়। তবে এটি উন্নয়নের জন্য গুরুতর বাধা। 
সোমবার সচিবালয়ে হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের সাথে বৈঠককালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ ছাড়াও বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, এমসিসিআই’র নেতারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 
মন্ত্রী বলেন, টানা দুই মাস হয়ে গেল। এটা কতদিন চলবে? এর একটা শেষ থাকতে হবে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর দায়িত্ব বিএনপি’র। কিন্তু তাদের মধ্যে এর কোন ইঙ্গিত নেই। 
বিএনপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দলটি তো সংসদেও নেই। সংসদে থাকলে তো একটা ফোরাম থাকে। আলাপ-আলোচনার সুযোগ থাকে। 
অবশ্য গত দুই মাসে বিদ্যমান পরিস্থিতি রপ্তানিকারকদের জন্য ততটা গুরুতর প্রভাব ফেলেনি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যা সকলেরই হচ্ছে। তবে এটা অপ্রত্যাশিত। এ দুই মাসে হয়তো প্রভাব অতটা পড়বে না। এটা আরও পরে বোঝা যাবে। সুতরাং সকলের জন্যই কিছু করতে হবে। তবে এর আগে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের সাথে আবারো বৈঠক করে একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবস্থা একটা নেব। 
গত দুই মাসের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য রপ্তানিকারকদের জন্য ২১টি দাবি তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নতুন করে কোনো রপ্তানি ঋণ শ্রেণিবিন্যাস না করা, এই সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাসের মধ্যে ঋণ শ্রেণিবিন্যাস করা, পোশাকসহ সব রপ্তানিকারককে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করার সুযোগ দেয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুনঃতফসিলীকৃত ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখা, পাঁচ বছরের প্রজেক্ট লোন তিন বছর বাড়িয়ে আট বছরে কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি বড় ঋণগ্রহীতাদের (৫০০ কোটির বেশি ঋণগ্রহীতা) ঋণ পুনর্গঠনের জন্য ১২ বছরের সময় দেয়া হয়েছে। এ সুযোগ রপ্তানিখাতের ছোট ঋণগ্রহীতা উদ্যোক্তাদেরও দেয়ার দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে, নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, সব বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা চালু করা, ইউরোপের মুদ্রার মান কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ইইউ’র দেশগুলোতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া, অবরোধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের উপর আরোপিত মাশুল প্রত্যাহার করা, মহাসড়কে পণ্যের জন্য স্বল্প প্রিমিয়ামকে বীমা ব্যবস্থা চালু করা, এবং বিদ্যমান বীমা প্রিমিয়াম কমানোর দাবিও করা হয়। 
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে সরকার বড় রপ্তানিকারকদের যে সব সুবিধা দেবে একই সুবিধা যেন অন্যান্য রপ্তানি খাতেও দেয়া হয়। কারণ তারাও ক্ষতিগ্রস্ত।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী, এক্সপোর্টার্স অ্যাসেসিয়েশনের (ইএবি) সভপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, এমসিসিআই সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি আসলাম সানি প্রমুখ।