বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ৯ দেশের কূটনীতিকের বৈঠক

 
 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী ৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানরা গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈঠক করেছেন।  খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক বেগম জিয়ার কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা, শান্তি, মানবাধিকার. গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। দলগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক বাড়াতে হবে। জাতিসংঘও অনুরুপ আহ্বান জানিয়ে আসছে।
বাংলাদেশের বন্ধু (ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ) বলে পরিচিত প্রভাবশালী ও পশ্চিমা দেশগুলোর এই কূটনীতিকদের গ্রুপ সাম্প্রতিককালে জোটবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। গত ১ মার্চ তারা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দুই জন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অনুরুপ আহবান জানান। তারই ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক বলে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক সাংবাদিকদের জানান।
গুলশানে গতকাল সন্ধ্যায় কূটনীতিকরা অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনারের বাসভবনে একত্রিত হন। সেখানে কিছুক্ষণ আলোচনার পর সবাই একত্রে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তারা সাদা মাইক্রোবাসে করে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। গাড়িটির সামনে-পেছনে ছিল পুলিশের কড়া নিরাপত্তা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার গ্রেগ উইলকক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন, ফরাসি রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমাসহ, জার্মানি, কানাডার রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা বৈঠকে যোগ দেন। বাংলাদেশের আসার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে এটাই বার্নিকাটের প্রথম সাক্ষাত্। গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুই ঘন্টার বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।