রংপুরে রোকেয়া ভার্সিটিতে সংঘর্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী পুলিশসহ আহত ২০

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত আমরণ অনশনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনশন মঞ্চ ভেঙ্গে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ৪ পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ এবং ২৫ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে শিক্ষক ফরিদ উল ইসলাম, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, খন্দকার জাহাঙ্গীর, তাবিউর রহমান, শরিফুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এরশাদুল ইসলাম, সেকশন অফিসার সামছুল হক, আমিনুল রহমান, এরশাদুজ্জামান, শিক্ষার্থী সালমান, শাহজাহান, আসিফ, মুনেমসহ ১৫ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মহানগর জাতীয় পার্টির (এ) আহবায়ক ও রংপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ও কারমাইকেল কলেজের সাবেক ভিপি অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মিয়া, জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের বেলালসহ এলাকাবাসী গতকাল সন্ধ্যায় অনশনরত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মঞ্চে গিয়ে তাদের অনশন ভাঙ্গার আহবান জানান এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। এনিয়ে শিক্ষকদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অনশনকারীদের মঞ্চ ও চেয়ার ভেঙ্গে ফেলাসহ ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এতে দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ২টি বাসসহ ১০টি অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়। পুলিশ তাদের অবরোধ তুলে নেয়ার আহবান জানালে শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষ ও পুলিশি লাঠিচার্জে শিক্ষক ফরিদ উল ইসলাম, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, খন্দকার জাহাঙ্গীর, তাবিউর রহমান, শরিফুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এরশাদুল ইসলাম, সেকশন অফিসার সামছুল হক, আমিনুল রহমান, এরশাদুজ্জামান, শিক্ষার্থী সালমান, শাহজাহান, আসিফ, মুনেমসহ ২০ জন আহত হয়।