আত্মবিশ্বাস ফেরানোর লড়াই আজ

যারা সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাসী, তাদের জন্য চমত্কার একটা জায়গায় এখন বাংলাদেশ দল দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের এখন পয়েন্ট ৩, খেলা বাকি ৩ এবং প্রতিপক্ষ ৩ ‘ল্যান্ড’—স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড!

এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় বাংলাদেশ পাচ্ছে কিনা, সেটা অনেকটাই বুঝে ফেলার কথা এতোক্ষণে। কোনো দুর্বিপাক না হলে আজ ভোর চারটায় নিউজিল্যান্ডের নেলসন শহরের স্যাক্সটন ওভাল মাঠে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড ম্যাচ। এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় না পাওয়াটাই হবে বিস্ময়কর ব্যাপার। তাই এই ম্যাচ ছাপিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের আলোচনা অন্তত এখনই বাকি দুই ‘ল্যান্ড’, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে গেছে।
আসছে দুই ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটাই আসলে বাংলাদেশের জীবন-মরণ ম্যাচ।
মার্চের ৯ তারিখে এডিলেড ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা কার্যত বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এক ‘ফাইনাল’-এ পরিণত হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে ওই ম্যাচে জয়ের খুব একটা বিকল্প নেই।
হ্যা, একটা হিসাব আছে। যদি বাংলাদেশ আজকের ম্যাচটা জিতে ফেলে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতে; তাহলে ইংল্যান্ডকে না হারিয়েও কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে এক ইংল্যান্ডের বদলে অন্য দুই ‘ল্যান্ড’-এর বিপক্ষে জয় লাগবে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে গত সাত ম্যাচে হারলেও এখনকার দৃশ্যপট একেবারেই আলাদা। এবার নিজেদের মাটিতে খেলায় প্রায় অপরাজেয় এক রূপ ধারণ করেছে বর্তমান নিউজিল্যান্ড দল। ফলে বাস্তবতা ও হিসাবের জটিলতা মিলিয়ে ইংল্যান্ডকে হারানোর তেমন কোনো বিকল্প নেই।

এইসব হিসাব জানার পরও মাশরাফি গতকাল পর্যন্তও বলছিলেন, তাদের চিন্তা জুড়ে শুধুই স্কটল্যান্ড। একে তো এই ম্যাচটা জিতে তারা ‘গতি’টা পেতে চান। যাতে করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো একটা ফলাফল আশা করা যায়। আর দ্বিতীয়ত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে হিসাবটা আরও বেশি নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে চান তিনি, ‘স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যদি আমরা জিতি তাহলে দুইটা সুযোগ পাচ্ছি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ পর্যন্ত সুযোগ থাকবে; ইংল্যান্ডের সঙ্গে হারলেও সুযোগ থাকবে। হ্যা, এ ম্যাচ হারলে আমাদের একটা সুযোগ থাকবে; তবে একটাই সুযোগ থাকবে। আর এ ম্যাচ জিতলে আমাদের দুইটা সুযোগ থাকবে। এটা পরের হিসাব। গুরুত্বপূর্ণ হল এই ম্যাচটাকে ফোকাস করা উচিত। এবং এই ম্যাচটা জেতার জন্য যতটুকু সম্ভব ততটুকু করা উচিত। ম্যাচটা যদি জিততে পারি তাহলে পয়েন্টও পাব সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। কারণ জয়ের বিকল্প আর কোন কিছুতে নেই। আত্মবিশ্বাস জয় দিয়েই আসে বেশি।’