অসহযোগ কর্মসূচি আপাতত আসছে না

‘গ্রেফতার-তল্লাশী’ না হওয়ায় এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনাররা বৈঠক করার পর গুলশান কার্যালয়ের দৃশ্যপট-পরিবেশ এখন অনেকটা স্বাভাবিক। আপাতত ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ ঘোষণা পিছিয়েছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের মুহূর্তে তিনি নিজে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আন্দোলনের শেষ ধাপ হিসাবে অসহযোগ এবং তার নিজের অনুপস্থিতিতে দল ও জোট পরিচালনায় করণীয় নির্ধারণ করে নেতাকর্মীদের জন্য নির্দেশনার একটি খসড়াও তৈরি রাখা হয়।  গতকাল গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবস্থানরত একাধিক কর্মকর্তা এবং নেতার সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে। গুলশান কার্যালয়ে থাকা এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া নিশ্চিত ছিলেন তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হবে। সেভাবেই তিনি সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।

কার্যালয়ে থাকা বিএনপির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া মনে করছেন গতকাল আদালতে হাজিরার দিনটি চলে যাওয়ার পর আপাতত গ্রেফতার আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণার বিষয়টি আপাতত স্থগিত থাকছে।
এদিকে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানরত দলের নেতা-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকটা গ্রেফতার আতঙ্ক কেটে গেছে। ঐ কার্যালয়ে খাবার-দাবারের সঙ্কটও এখন নেই। বিকল্প নানা পন্থায় খাবার ঢুকছে। আগের মতো সেখানে আর কড়া পুলিশ প্রহরাও নেই। গতকাল কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় মাত্র ১২-১৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। এদের দুজন রেজিস্টার খাতা নিয়ে বসে আছেন প্রবেশ পথে। যারা ঢুকতে চাচ্ছেন অথবা বের হচ্ছেন তাদের নাম-ধাম লিপিবদ্ধ করছেন তারা। গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে দলীয় নেতা-কর্মকর্তা-ব্যক্তিগত স্টাফদের নিয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। তখন থেকেই কার্যালয়ে বাইরের কাউকে ঢুকতে এবং ভেতর থেকে কাউকে বাইরে বের হতে দিচ্ছিল না আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এখন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে।
গতকাল বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক এবং বিএনপির সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান। আরাফাত রহমান কোকোর চেহলাম উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে তারা শরিক হন। ব্যারিস্টার রফিকুল হক খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এছাড়াও সেখানে অন্তত ২০ জন আলেমও যান। কার্যালয়ে অবস্থানরত একজন কর্মকর্তা জানান, আদালতে না গেলে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হতে পারে এবং সেই সাথে কার্যালয়ে থাকা আমাদেরও আটক করা হবে— এমন খবর আসছিল। এখন সবাই বেশ স্বস্তি অনুভব করছেন।’ জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা কার্যক্রমে গতকাল বিশেষ আদালত পরবর্ত শুনানী ৫ এপ্রিল ধার্য করেছে। এতে গ্রেফতারী পরোয়ানা বহাল থাকলেও আগামী এক মাস তাকে গ্রেফতার করার আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করছেন।
বেগম খালেদা জিয়া যে কোন
ত্যাগ স্বীকার করতে
প্রস্তুত :বিএনপি
এদিকে গতকাল ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলমান গণআন্দোলন যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। খালেদা জিয়া যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা গণআন্দোলনকে বন্দী করতে পারে না।
আজ সারাদেশে ২০
দলের গণমিছিল
আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও সকল মহানগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণমিছিল করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। গতকাল এক বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ চলমান অবরোধ-হরতাল কর্মসূচির পাশাপাশি আজ দেশব্যাপী গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আহ্বান জানান।
আজ ও কাল সারাদেশে
যুবদলের বিক্ষোভ

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কাল শুক্রবার দেশের সকল উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ও শনিবার দেশের সকল মহানগরীতে এ কর্মসূচি পালন করবে যুবদল। গতকাল এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।