২০১২ সালের ডিসেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে এক মেডিকেল ছাত্রী গণধর্ষণ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ ব্রডকাষ্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি)। বুধবার রাতে এই তথ্যচিত্রটি ব্রিটেনসহ আরো কয়েকটি দেশে সম্প্রচার করা হয়।
ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা লেসলি উইডেন নির্মিত ‘ইন্ডিয়া’স ডটার’ নামের তথ্যচিত্রটি আগামী ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সম্প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই এটির সম্প্রচার করল বিবিসি।
তথ্যচিত্রে তিহারের জেলে নির্ভয়ার অন্যতম ধর্ষক, খুনি মুকেশ সিংয়ের সাক্ষাত্কার নেয়া হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ পরিচালক লেসলিকে জেরা করার কথা ভাবছে।
তথ্যচিত্র ইস্যুতে রাজ্যসভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর তথ্যচিত্রের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ব্রিটিশ চলচ্চিত্রকার লেসলি উডউইন তিহার জেলে গিয়ে দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডে অপরাধী মুকেশ সিংয়ের সাক্ষাত্কার নেন। যেই প্রক্রিয়ায় এই সাক্ষাত্কার নেয়া হয়েছিল তা আইন বিরুদ্ধ বলে আজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। এরপরই তথ্যচিত্রের সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।
রাজনাথ সিং বলেন, ইন্টারভিউ শুটিং করার সময় শর্ত রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র সামাজিক উদ্দেশ্যেই এই সাক্ষাত্কার ব্যবহার করা যাবে। কোনোরকম বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। জেল কর্তৃপক্ষ তথ্যচিত্রের কথা জানার পর এই বিষয়ে আইনি নোটিসও ইস্যু করে। এদিন, রাজ্যসভায় রাজনাথ সিং আশ্বাস দেন সরকার এই তথ্যচিত্র কোনোভাবেই সম্প্রচারিত হতে দেবে না। তিনি বলেন, সরকার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২ এর ঘটনার চরম বিরোধিতা করে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলকে এই ঘটনা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেবো না। নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় সরকার দায়বদ্ধ।
এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, এই ঘটনা জানার পরেই আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখিত হয়ে পড়ি। এরপর কোনোদিন যাতে এইভাবে ধর্ষকদের সাক্ষাত্কার নেওয়ার অনুমতি না দেয়া হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখবে সরকার।
মুকেশ সিংয়ের সাক্ষাত্কার নেয়া লেসলি জানান, আমার কাছে এমএইচএ ও তিহার কর্তৃপক্ষের অনুমতি পত্র রয়েছে। আমার এডিট না করা ফুটেজ দেখিয়েছি। জেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আমরা মেনে চলেছি।
সুশীল কুমার শিন্ডে, যিনি ২০১৩ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, জানিয়েছেন এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই তার নয়।
বুধবার শিন্ডে বলেছেন 'নির্ভয়া কাণ্ড নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের কোনো অনুমতিই আমি দিইনি। আমি রাজ্যসভার আলোচনা লক্ষ্য করেছি। রাজনাথ সিং কোথাও আমাকে একবারের জন্যও দায়ী করেননি। আমি জানি না কে আমার নাম তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি ও জি-নিউজ।