হেসেখেলেই জিতল বাংলাদেশ

 
 
 
অপেক্ষা দুর্বল প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের কাছ থেকে ৩১৯ রানের টার্গেট পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তামিম-মুশফিকদের নৈপুন্যে সেই চাপের ছাপ তো দেখা গেলোই না বরং বিশাল টার্গেট অতিক্রম করে একাধিক রেকর্ড গড়ে হেসেখেলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ। আর এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের পথও সুগম হলো টাইগারদের সামনে।
 
বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের নেলসনে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যাট করতে নেমে কাইল কোয়েটজারের নান্দনিক এক শতকের সুবাদে ৩১৮ রান সংগ্রহ করে স্কটল্যান্ড। জবাবে ছয় উইকেট ও ১১ বল বাকি থাকতেই গন্তব্যে পোঁছায় টাইগাররা। এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আর বিশ্বকাপে এই কৃতিত্ব জায়গা পেয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
 
এই জয়ের ফলে চার ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ পয়েন্ট ৫। এ গ্রুপে সমান সংখ্যক ম্যাচ থেকে সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে মাশরাফিদের চেয়ে একধাপ উপরে আছে অস্ট্রেলিয়া। ৮ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে নিউ জিল্যান্ড, আর ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। পরবর্তী দুই ম্যাচের মধ্যে যে কোনো একটিতে জয় পেলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। আগামী ৯ ও ১৩ মার্চ যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
 
৩১৯ রানের বিশাল লক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একে তো এনামুল বিজয়ের ব্যাটিং করা নিয়ে সংশয়। অন্যদিকে দলীয় ৫ রানের মাথায় জোস ড্যাভির বলে ক্রুজের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার। তবে এই চাপ দলের ওপর পড়তে দেননি ওপেনার তামিম ইকবাল ও ওয়ান ডাউনে আসা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুজনে মিলে ১৩৯ রানের জুটি গড়ে দলকে প্রাথমিক চাপ থেকে উদ্ধার করেন। দলীয় ১৪৪ রানের মাথায় ওয়ার্ডল’র একটি বল মাহমুদুল্লার পায়ে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। পতন হয় বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় উইকেটের। এরপর মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়েন তামিম। তারা দুজনে মিলে সংগ্রহ করেন আরও ৫৭ রান। দলকে সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে দিলেও নার্ভাস নাইনটি কাল হয় তামিমের। দলীয় ২০১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৯৫ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। এরপর সাকিব-মুশফিক জুটির ৪৬ রান দলকে নিয়ে যায় জয়ের পথে। শেষ কাজটুকু করেন সাকিব ও সাব্বির রহমান। তারা দুজনের মাত্র ১০.১ বল মোকাবেলা করে সংগ্রহ করেন ৭৫ রান। দলও পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। সাকিব ৫২ ও সাব্বির ৪২ রান করেছেন।