সারদার রেশ কাটতে না কাটতেই রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের নাম। বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের খোঁজে সারদার সঙ্গে অন্যান্য অর্থলগ্নি সংস্থায় তদন্ত চালানোর আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সিবিআই ভারতের ১১টি রাজ্যে রোজ ভ্যালির মোট ৪৩টি অফিসে তল্লাশি চালায়। এর মধ্যে ত্রিপুরায় তল্লাশি চালিয়ে বহু নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। চলছে কর্মকর্তাদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।
সিবিআই জানিয়েছে—রোজ ভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডু ও জেনারেল ম্যানেজার শিবময় দত্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আটক করা নথিপত্র থেকে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এরই পাশাপাশি রয়েছে তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের ফ্ল্যাট। কিন্তু তৃণমূল যেমন তাপসের বাড়িতে তল্লাশি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তেমনি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি রোজ ভ্যালির কাছ থেকেও। তবে শুধু তাপস পাল নন, আশঙ্কা করা হচ্ছে—তদন্ত এগোলে তৃণমূলের অনেক নেতা ও সাংসদের নাম উঠে আসতে পারে। চলে আসতে পারে ডেলো পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে গৌতম কুণ্ডু বৈঠকের বিষয়টিও। এর মধ্যে ইডির কাছে এই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন গৌতম। মুকুল রায়ও সিবিআইয়ের কাছে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন বলে জানা গেছে। বিরোধীরা বরাবরই অভিযোগ করছেন—সারদা প্রধান সুদীপ্ত সেনের মতো গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গেও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। সেই বিষয়টি এখন সামনে চলে আসবে বলেই ভয় পাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এ দিকে, রোজ ভ্যালির তদন্তভার হাতে নিয়েই সারা দেশে সংস্থার বিভিন্ন অফিসে তল্লাশি চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়েছে—বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ২৭টি জায়গা ছাড়াও ভারতের উড়িষ্যা, আসাম, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, ঝাড়খ, ছত্রিশগড় ও তামিলনাড়ুর একটি এবং ত্রিপুরার সাতটি অফিসে হানা দেয় সিবিআই। এ ছাড়া, দিনভর জেরা করা হয় বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের।