আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ বিদেশি কূটনীতিকরাও বাংলাদেশে চলমান সহিংসতার নির্দেশদাতা হিসেবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিহ্নিত করেছেন। এ কারণে তাকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে আওয়ামী লীগ কোনো চাপের ভয় করে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো চাপও নেই।’
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভায় এবং ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাথে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ও নারী সংগঠন নেতৃবৃন্দের এক যৌথসভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। আগামী সাতই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা সফল করতে পৃথক এ দুটি সভার আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন এবং কাপুরুষের দল। ক্ষমতায় থাকাকালে তারা হাওয়া ভবন থেকে সব কিছু করত। আর এখন তারা ই-মেইলের মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে আন্দোলনের নামে সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। তবে বিএনপির কোনো হুমকি-ধমকিতে আওয়ামী লীগ ভয় পায় না। ভয়কে জয় করেই আমরা একাত্তরে বিজয় এনেছিলাম। এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভয়কে জয় করেই দেশকে এগিয়ে নিযে যাব।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাসময়ে ব্যবস্থা নেবে।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়া কার ব্যর্থতা—এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এটা কারো ব্যর্থতা নয়।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ ভয়কে জয় করে রাস্তায় নেমে এসেছে। দেশে কোথাও এখন হরতাল-অবরোধ হয় না। সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।’
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।’
বর্ধিত ও যৌথ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার প্রমুখ।