অবরোধ-হরতালের পেট্রোল বোমার আগুনে মারাত্মক দগ্ধ ট্রাকের হেলপার সেলিম রেজা (৩০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকালে মারা গেছেন।
একই সাথে দগ্ধ ট্রাক চালক ফিরোজ হোসেন (৪০) ও ব্যবসায়ী সাহেব আলীর (৩৬) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি মো. আতিকুল ইসলাম আজম জানান, বুধবার রাত ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরের নিমতলা কাঁঠাল এলাকায় আলু বোঝাই ট্রাকে পেট্রোল বোমা হামলায় তারা দগ্ধ হন। তাদের প্রথমে রহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রামেক বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে গোমস্তাপুর থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ জানান, নওগাঁর ধামুরহাট থেকে আলু বোঝাই ট্রাকটি
(ঢাকা মেট্রো ট-১৪-৪৩২৩) শিবগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের ৩৪ নেতাকর্মীকে আসামী করে গোমস্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই পুলিশ ও যৌথবাহিনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন সাতজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন ইত্তেফাককে জানান, হেলপার সেলিমের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিকাল ৪টার দিকে সেলিম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফিরোজ হোসেন ও আলু ব্যবসায়ী সাহেব আলীর শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ফিরোজের শ্বাসনালীসহ শরীরের ২০ ভাগ এবং সাহেব আলীর শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪৬ ভাগ পুড়ে গেছে।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম জানান, হতাহতরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জালমাছমারি গ্রামের বাসিন্দা। হেলপার সেলিম ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। চালক ফিরোজ হোসেন ওমর আলীর ছেলে এবং ব্যবসায়ী সাহেব আলী সেতাউর রহমানের ছেলে। হতদরিদ্র পরিবারের তিনজনের হতাহতের ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে গত মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ ১৪ বছরের শিশু শাকিলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ‘বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘি গ্রামে। বাবার নাম জসিম উদ্দিন’ রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর এটাই ছিল শিশু শাকিলের শেষ কথা। এর পর থেকেই তার কণ্ঠ স্তব্ধ।
রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিত্সক অধ্যাপক আফরোজা নাজনীন জানান, অবরোধ-হরতালের পেট্রোল-বোমার আগুনে শাকিলের শ্বাসনালীসহ শরীরের শতকরা ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাই কথা বলতে পারছে না শাকিল। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।