‘তরুণরা ব্যান্ড গড়লেও মঞ্চটা পাচ্ছে না’

 
 
এদেশের ব্যান্ড মিউজিকের পথিকৃত মিউজিশিয়ান ফুয়াদ নাসের বাবু। তার সঙ্গীতস্পর্শে যেমন অগণিত গানের জনপ্রিয়তা এসেছে ঠিক তেমনি তার হাত ধরে সঙ্গীতে প্রতিষ্ঠাও পেয়েছেন অনেকে। ছুটির দিনের বিনোদন প্রতিদিনের কথোপকথনে কথা বলেছেন তিনি।
এখনকার কাজ সম্পর্কে জানতে চাই।
মাঝে বেশ কিছু শো করেছি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য কোনো শো নেই। বর্তমানে নতুন একজন ভোকালিস্ট রায়হানকে নিয়ে আমরা কাজ করছি। তার কয়েকটি গান রেকর্ডিংয়ের পর আমরা অ্যালবাম বের করবো।
অনেক দিন ধরে ফিডব্যাকের নতুন কোনো অ্যালবাম নেই।
অনেক দিন বলতে আসলেই অনেক দিন হয়ে গেছে! প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় হবে। একটি অ্যালবাম ২০০৮-৯ সালে বের হবার কথা ছিল। কিন্তু লেবেল কোম্পানির সাথে ঝামেলার জন্য অ্যালবামটি বের করা সম্ভব হয়নি। তারাও আলোচনায় বসছে না। তারা মনে করে টাকা দিলেই গানগুলো তাদের হয়ে যাবে। কপিরাইট আইন কিন্তু তা বলে না। সেই ঝামেলা এখনও মেটেনি।
এখনকার গানের অবস্থা সম্পর্কে বলুন।
এখন তো অডিও বাজারের অবস্থা ভালো নয়। মানুষ অ্যালবাম কিনে গান শোনে না। শিল্পীদের অবস্থাও তাই ভালো নয়। এর মধ্যদিয়েও কিন্তু ভালো গান হচ্ছে। হয়তো খুব কম, তবে ভালো গান হচ্ছে।
নতুন মিউজিশিয়ানরা আলোচনায় আসতে পারছেন না কেন?
তাদের দুর্ভাগ্য যে তারা এমন একটা সময়ে কাজ করছে যখন অডিও বাজারের অবস্থা ভালো নয়। এখনও কিন্তু অনেক মিউজিশিয়ান ভালো কাজ করছে। কিন্তু তারা যথাযথ প্রচার পাচ্ছে না। আগে দেখা যেত মানুষ আমাদের অ্যালবাম কেনার জন্য অপেক্ষা করতো। অ্যালবাম বের হলেই কিনে ফেলতো। এখন অনলাইনে গান শোনে। অনলাইনে কোন গান শুনছে না শুনছে বোঝার উপায় নেই। তবে নিশ্চয়ই এই অবস্থা চিরকাল থাকবে না।
ব্যান্ডে ধ্বস নামার কারণ কি?
ব্যান্ডগুলো সেভাবে ভালো গান দিতে পারছে না বলেই ধ্বস নেমেছে। আইয়ূব বাচ্চু সে সময়ে যে গানগুলো করেছেন তা কিন্তু আজও খুব জনপ্রিয়। সে সময় আমরা, সোলসসহ আরও অনেক ব্যান্ড ভালো গান দিয়েছি। এখনও যখন বিভিন্ন জায়গায় আমরা কনসার্ট করতে যাই তখন সে সব গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসাটা বুঝতে পারি। শ্রোতারা আমাদের সাথে সাথে গলা মেলায়। সে সব গান সবার মুখস্থ। এখনও কিছু ভালো গান হচ্ছে কিন্তু তা যথার্থ নয়। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখন ওপেন এয়ার কনসার্টও হচ্ছে না। আমার মনে হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও ব্যান্ড তার জনপ্রিয়তা ফিরে পাবে।
তরুণরা কি ব্যান্ড গঠনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে?
আমি মনে করি না যে তারা আগ্রহ হারিয়েছে। একজন কিশোর যখন কোনো ইন্সট্রুমেন্ট শেখা শুরু করে তখন থেকেই কিন্তু সে ব্যান্ডের স্বপ্ন দেখে। তাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কথাটা মানতে পারছি না। তরুণরা ব্যান্ড গঠন করলেও মঞ্চটা পাচ্ছে না। এখনও ঢাকার বাইরে যখন যাই তখন বুঝতে পারি তারা বেশ ভালো কাজ করছে। নতুন ব্যান্ডগুলোর মধ্যে জলের গান, চিরকুট কিন্তু বেশ জনপ্রিয়। জলের গান তো তাদের গানের ধারা দিয়েই পরিবর্তন এনেছে। শ্রোতারা তা গ্রহণও করেছেন।
আপনি শিল্পী সংগঠনের সাথে আছেন। শিল্পীদের এখন কি অবস্থা?
শিল্পীরা কপিরাইট নিয়ে লড়ছে। গত পরশুও শিল্পকলায় এই নিয়ে আমাদের একটি মিটিং ছিল। কপিরাইটের ঝামেলা মিটলে এই অবস্থা আর থাকবে না। সে সুযোগ আমরা হয়তো পাবো না তবে নতুনরা যেন সেই সুযোগটা পায় তার জন্যই আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।