কক্সবাজারের উখিয়া ও তৎসংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে আশংকাজনকভাবে। সীমান্তের তুমব্রু, ঘুমধুম, বালুখালী পয়েন্টে বিজিবির হাতে কিছু কিছু রোহিঙ্গা নাগরিক আটক হলেও দালালের হাত ধরে আসা অধিকাংশ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে বালুখালী বিজিবি যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১০৮ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুকে আটক করেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে ওমরা ভিসা নিয়ে সৌদিয়া ও মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর জন্য মিয়ানমার থেকে এসব রোহিঙ্গারা ধেয়ে আসছেন।
জানা গেছে, উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকলেও ক্যাম্প ২টির আশেপাশে আরো লক্ষাধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা ঝুঁপড়ি বেঁধে বসবাস করছেন। এসব অবৈধ রোহিঙ্গাদের সরকারি ভাবে কোন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া না হলেও কিছু কিছু এনজিও সংস্থা তাদের আখের গোছানোর জন্য এসব অবৈধ রোহিঙ্গাদের গোপনে ত্রাণ সামগ্রীসহ নগদ টাকা সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করায় গত ২ মাস ধরে সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দু’মাসে বিজিবি সদস্যরা প্রায় ২ হাজারেরও অধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাকে আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
হজ পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ৭শ’ ৭৮ জন হজ যাত্রী নেয়ার জন্য সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চুক্তিস্বাক্ষরিত হওয়ায় ওমরা ও হজ ভিসার মাধ্যমে এসব অবৈধ রোহিঙ্গা নাগরিকেরা সৌদিয়া পাড়ি জমানোর জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সাগরপথে অল্প টাকায় মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর জন্য এসব রোহিঙ্গারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক উধাও হয়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ক্যাম্প ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারি রাকিবুল্লাহ জানান, এসব রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে ওমরা ভিসা নিয়ে সৌদিয়া ও সাগরপথে মালয়েশিয়া চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বস্তিতে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবারের ২/১ জন করে সদস্য বিভিন্ন দেশে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছে। এদের পাঠানো টাকায় এখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা স্বচ্ছল জীবন যাপনের পাশাপাশি বিদেশ পাড়ি জমাতে সবসময় সক্রিয় থাকে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসান সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, কিছু কিছু এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে দাতা সংস্থার প্রদত্ত দান খয়রাতের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা ঝিয়ে রেখেছে। এছাড়াও এসব অবৈধ রোহিঙ্গাদের উপর সরকারের কড়া নজরদারী না থাকায় তারা যেখানে সেখানে চষে বেড়াবার সুযোগ পাচ্ছেন। যেকারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি অনুপ্রবেশ বন্ধ হচ্ছে না। কক্সবাজার ১৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম জানান, সীমান্তে বসবাসরত কিছু দালালচক্রের হাত ধরে রোহিঙ্গারা নিরাপদে অনুপ্রবেশ করতে পারায় বিজিবি’র কড়া নজরদারী থাকা সত্ত্বেও অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না।