‘বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে বিদেশি কোনো চাপ নেই। প্রধানমন্ত্রী বিদেশি চাপ বিশ্বাস করেন না। বিদেশি চাপে মাথা নতও করেননি। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছেন। আইন অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।’ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ সব কথা বলেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা রাজনীতিবিদদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বোমা হামলা চালাতে গিয়ে যারা পুলিশের গুলির শিকার হচ্ছেন, তাদের বিরোধীদলের নেতারা নিজেদের লোক বলে স্বীকার করছেন না। কাজেই বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তা ঠিক নয়।
অভিজিত্ রায় হত্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা মাফিক খুনিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে অনেক ভয়ের মনে হয়েছে। ঘাতকরা বেশ কয়েকজন ছিল। এ কারণে সেখানে যে খুন হবে আশেপাশের লোকজন বুঝতে পারেনি। এ হত্যাকাণ্ডে ফারাবি ছাড়াও আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগরিই তারা ধরা পড়বে।’
অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডের পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে আসা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এফবিআইয়ের একটি ইউনিট ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আছে। তারাই প্রথম দিন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। দেশের গোয়েন্দারা ব্যর্থ হয়নি। যেহেতু অভিজিত্ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এ কারণে এফবিআই এসেছে।’
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক নির্দেশনা ফলো করতে হয়েছে। অনেক জটিলতার পর মনে করা হয়েছে—এটা সাংবাদিকদের সামনে খোলাসা করব। খুব সহসাই এটা করতে পারব।’
পুলিশ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে হয়রানি করছে এবং উেকাচ নিয়ে ছেড়েও দেয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করার সময় একজনের সঙ্গে আরেকজনকে ধরে নেয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। পুলিশ যে উেকাচ নেয় না, তা একেবারে বলা যাবে না। যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখাওয়াত হোসেন বাদশা।