দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মেহরীন। এবারের নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের নিয়ে গান করলেন এই পপ তারকা। নিজের বর্তমান কাজ ও নারী দিবসের এই গানটি নিয়ে সম্প্রতি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত
এখনকার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
মাত্রই তো নারী দিবসের গান করলাম। এখন আর কিছু করছি না। তাই বলা যায় এখন এক রকম বসেই আছি। গানটি ইউটিউব বা আমার সাইটে সহজেই শ্রোতারা শুনতে পারবেন। ইউটিউবে গানের যে মিউজিক ভিডিওটি আছে তা কিছুটা ব্যতিক্রম। আমরা যখন গানটি রেকর্ডিং করেছি তখনকার ছবিগুলো নিয়েই এই মিউজিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
আইয়ুব বাচ্চুর সাথে গান করলেন। পরিকল্পনাটা কিভাবে এলো?
বাচ্চু ভাইয়ের সাথে কাজ করবো এমন পরিকল্পনা অনেক দিনের। গত এক/দেড় বছর ধরে যখন বাংলাদেশি আইডলে একসাথে কাজ করতাম তখনই আমাদের পরিকল্পনা ছিল একসাথে কাজ করার। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আর যাই হোক প্রেমের গান আমরা করবো না। কারণ আমরা দু’জনই এর আগে অনেক ভালোবাসার গান করেছি। তাই আমরা সব সময়ই চেয়েছি যে গানটি করবো তা যেন বিশেষ কিছু হয়। গানটির কথা, সুর, কম্পোজ বাচ্চু ভাই করেছেন।
হঠাত্ নারীদের নিয়ে গান করার কারণ কি?
আমার মা ছিলেন একজন সমাজসেবক। তখন থেকেই নারীদের অনেক সমস্যা আমার চোখে পড়তো। নারীদের নিয়ে গান করা আমার অনেকদিনের ইচ্ছা। অন্যদিকে বাচ্চু ভাই খুবই মাতৃভক্ত একজন মানুষ। তিনি নারীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমার ইচ্ছে ছিল নারীদের নিয়ে এমন একটি গান করবো যেটা ২০/৫০ বছর পরও জীবন্ত থাকে। এখন বলতে পারছি না আমরা কতটা সার্থক। সময়ই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।
এই গানের মাধ্যমে আপনারা কি তুলে ধরতে চেয়েছেন?
আমাদের গানের শিরোনাম হচ্ছে ‘আমি নারী, আমিই পারি। আমরা নারী, আমরাও পারি’। আমরা নারীদের ভেতরকে আরও জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। এখনও আমাদের সমাজে নারীরা পুরুষদের ওপর অনেক নির্ভর করে। কিন্তু তাদের অবশ্যই সাবলম্বী হতে হবে। নারীরা চাইলে অবশ্যই তা সম্ভব। নারীদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আমরা এটাই গানে বলতে চেয়েছি যে নারীরা তোমরা জেগে ওঠো।
আমাদের ইন্ডাস্ট্রির এখন যা অবস্থা তাতে এ ধরনের গান থেকে কতটা সাফল্য আশা করেন?
ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভিন্ন বিষয়। গানটা আমরা আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে করেছি। ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ইন্ডাস্ট্রি শিল্পীদের যথাযথ সম্মান করে না। করলে দুইদিন পর পর আমাদের পত্রিকায় সংবাদ দেখতে হতো না যে অমুক শিল্পীর সাহায্যে এগিয়ে আসুন। এখন তো শিল্পীদের না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।