৩৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে লড়াই করেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা। কুমার সাঙ্গাকারার অসাধারণ নৈপুন্যে দু’একবার জয়ের সম্ভবনাও জাগিয়েছিল তারা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে দিনেশ চান্দিমালকে মাঠ ছাড়তে না হলে ফলাফল উল্টোও হতে পারত।
রবিবার ‘এ’ গ্রুপের খেলায় সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৫০ ওভার শেষে ৩৭৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৩১২ রানে শেষ হয় লঙ্কানদের ইনিংস। ৬৪ রানের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ব্যক্তিগত ১ রানে জনসনের বলে হাডিনের হাতে ক্যাচ দেন এই আসরের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান লাহিরু থিরিমান্নে। এরপর শুরু হয় সাঙ্গাকারা ও দিলশানের তাণ্ডব। দুজনে মিলে ১৯.৫ ওভার খেলে সংগ্রহ করে ১৩০ রান। দলীয় ১৩৫ রানের মাথায় ফাকনারের বলে এলবিডব্লিউ হন দিলশান। এরপর সাঙ্গাকারার সঙ্গে জুটি গড়েন জয়াবর্ধনে। এই জুটিও অর্ধশত অতিক্রম করলে জয়ের সম্ভবনা জেগে ওঠে লঙ্কানদের সামনে। দলীয় ১৮৮ রানের মাথায় মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ এক থ্রো তে জয়বর্ধনে রান আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। এর পরপরই ব্যক্তিগত ১০৪ রানে সাঙ্গাকারা আউট হলে অনেকটাই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে লঙ্কানরা। তবে এখানেই শেষ নয়। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউসের সঙ্গে জুটি গড়ে আরেকবার জয়ের সম্ভবনা উজ্জ্বল করেন দিনেশ চান্দিমাল। শেষ ১০ ওভারে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০৫ রান। তবে ভাগ্য হয়তবা লঙ্কানদের পক্ষে ছিল না। দলীয় ২৮১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৫২ রানে হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়তে হয় চান্দিমালকে। এখানে মূলত শেষ হয় শ্রীলঙ্কার আশা।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৯ রানের মাথায় আউট হন ওয়ার্নার। মালিঙ্গার বলে প্রসন্ন’র হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর দলীয় ৪১ রানের মাথায় সামনে এগিয়ে খেলতে গিয়ে প্রসন্নর বলে স্ট্যাম্পিং হন ফিঞ্চ। পরে দলের হাল ধরেন স্মিথ ও ক্লার্ক। দুজনের গড়ে তোলেন ১৩৪ রানের বড় জুটি। দলীয় রান যখন ১৭৫, তখন আবারও আঘাত হানেন মালিঙ্গা। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন ক্লার্ককে। এরপর দলীয় স্কোরে ২ রান যোগ হতেই বিদায় নেন স্মিথ। দিলসানের বলে পেরেরার হাতে ধরা পড়েন তিনি।
১৭৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট বিদায়ের পর শুরু হয় ম্যাক্সওয়েল ও ওয়াটসনের তাণ্ডব। দুজনে মিলে ১৩.৪ ওভার ব্যাট করে সংগ্রহ করেন ১৬০ রান। দলীয় ৩৩৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১০২ রানে পেরেরার শিকার হন ম্যাক্সওয়েল। এক বল পরেই ফাকনার আউট হলে রানের গতি কিছুটা কমে আসে।