অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আর্থ-সামাজিক অর্জনের পথ ধরে দেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছার দ্বারপ্রান্তে তখন এই অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করার অপচেষ্টা চলছে। সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশবাসীর সাহসী প্রতিরোধে অচিরেই জনবিচ্ছিন্ন এসব কার্যকলাপের সমাপ্তি ঘটবে।
রবিবার সংসদে বাজেট ২০১৪-২০১৫ : প্রথম প্রান্তিক ও দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তিনি একথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন কর রাজস্ব আদায় বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে সরকারি ব্যয় ৭৬ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ১ শতাংশ কম। পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ৭৬ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ১৭ হাজার ৯ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। বিগত অর্থবছরে একই সময়ে ১৫ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। রফতানি আয় বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় ছিল ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একইভাবে আমদানি ব্যয় ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমদানি ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ২ এবং ১০ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ বিগত অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একই সময়ে প্রবাস আয় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিগত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবাস আয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। একই সময়ে বৈদেশিক রিজার্ভ গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বর ২০১৩ এর ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ডিসেম্বর ২০১৪ সময়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, গত প্রায় এক দশক ধরে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রক্ষেপনে খানিকটা পরিবর্তন আনা দরকার হতে পারে। বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় কো-অর্ডিনেশান কাউন্সিলের সভায় চলতি অর্থবছরের জিডিপি’র প্রক্ষেপন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।