রাজধানীর গুলশানে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ব্যাংক থেকে ৯০ কোটি টাকা তোলার চেষ্টার সময় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবীর সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার বেলা ১টার দিকে ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখায় এই জালিয়াতির চেষ্টা হয়। ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক তাত্ক্ষনিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— হাসিবুল হাসান (৩৪), মিরাজুল ইসলাম (৩৪), সাব্বির রহমান (২৪), মো. নজরুল হক (৪২), শাহাবুর রহমান বাবুল (৬৫), খোরশেদ আলম (৩৪), দেলোয়ার হোসেন (৪৫), সেলিম আহমেদ (৪৪), শাহজাহান (৫২), কাজী শাহাদত হোসেন (৫৭) এবং মাহবুবুর রহমান কাজল (৩০)।
পরিদর্শক ফিরোজ কবীর জানান, ব্র্যাক ব্যাংকের ওই শাখায় সাইফুল ইসলাম নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির বেশ কিছু টাকা এফডিআর করা আছে। এই চক্রটি জাল আমমোক্তার নামা তৈরি করে ওই হিসাব থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছিল। কয়েক দিন আগে তারা টাকা তোলার জন্য কাগজ নিয়ে ব্যাংকে যোগাযোগ করে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে জানায়। আর তাদের রবিবার টাকা নিতে আসতে বলা হয়। সে অনুযায়ী দু’জন গতকাল দুপুরে কাগজপত্র নিয়ে ব্যাংকে হাজির হলে তাদের বলা হয়, এতো টাকা নেয়ার জন্য আরো বেশি লোক থাকা উচিত। তখন দলের আরো নয়জন সেখানে হাজির হয় এবং পুলিশ সবাইকে গ্রেফতার করে।
ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ আশফাক সাংবাদিকদের বলেন, একটি প্রতারক চক্র একজন কাস্টমারের অনুপস্থিতিতে এফডিআর ভাঙিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ব্যাংকের কেউ জড়িত আছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার লুত্ফুল কবির বলেন, এটাই তদন্ত করে দেখার বিষয়। আমরা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছি।
প্রসঙ্গত, এর আগে গতবছরের ২৬ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের লালমাটিয়া শাখা থেকে গ্রাহকদের ৫৫টি চেক চুরি হলে বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। ‘হারিয়ে যাওয়া’ এসব চেকের মধ্যে একটি জমা দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে টাকা তোলারও চেষ্টা করা হয়।
এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৪টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে চেক ও নথি খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। গত বছর ডিসেম্বরে ব্যাংকের চেক জালিয়াতি করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। আর এবার ঘটল ভিন্ন রকমের প্রতারণা ঘটনা।