রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বড় প্রভাব পুঁজিবাজারে

 
 
 
 
 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গত দুই মাসে সার্বিক মূল্যসূচক ৩৪৫ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন নেমে এসেছে ২০০ কোটি টাকার ঘরে। এ দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১ হাজার ১২ কমে ১৪ হাজার ১৩০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। মনে করা হচ্ছে—দেশে লাগাতার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির আর্থিক হিসাব-বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় লভ্যাংশ ঘোষণা। লভ্যাংশ প্রাপ্তির আশায় প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এ বছর তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে থাকলেও লেনদেন বাড়ছে না। এর মূল কারণ হলো—রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—এ বছর ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ (দামের তুলনায়) দিয়েছে। এর পরও এ খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর প্রতিদিনই কমছে। অন্যান্য খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আইডিএলসির বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তারা সতর্ক। অনেকেই বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। এতে বাজারের লেনদেন কমে গেছে।
এ দিকে, বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ২০০ কোটি টাকার ঘরে। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর খরচ তুলতে দৈনিক অন্তত ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হওয়া প্রয়োজন। ফলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উদ্যোক্তারা চাপে পড়ে যাচ্ছেন।
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—গত ৬ জানুয়ারি ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ছিল ৪ হাজার ৯৬৯ পয়েন্ট। রবিবার তা কমে ৪ হাজার ৬২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক পর্যন্ত ১৪৭ কমে ১ হাজার ৭১২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন নেমে এসেছে ২৫০ কোটি টাকারও নিচে।
এ দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১ হাজার ১২ কমে ১৪ হাজার ১৩০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৫৪৮ পয়েন্ট।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আস্থা হারিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও। গেল ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজারে নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৮৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে বিদেশিরা মোট ৩১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা নিট বিনিয়োগ করেছে। জানুয়ারি মাসে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ ছিল ২২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাত্, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ কমেছে ১৯৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন—দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশিরা বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাজার এবং বিনিয়োগকারী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবের বাইরে নয়। বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে বিনিয়োগকারীরা ভীত। এ ছাড়া, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব গোটা অর্থনীতিতেই পড়ছে। তাই পুঁজিবাজারেও এর প্রভাব রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব দ্রুত আসা দরকার।’
ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন আরো বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে দরপতনের ফলে কিছু শেয়ারের পিই রেশিও (দাম ও আয়ের অনুপাত) কমে গেছে। তাই বিনিয়োগকারীরা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বিনিয়োগ করতে পারলে বাজার ও বিনিয়োগকারী উভয়ই লাভবান হবে।’