গাড়ি চালক যখন খুনি

 
 
চাকরিচ্যুত করায় মালিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয় গাড়ি চালক। পরিকল্পনা করে মালিককে হত্যার। পরিকল্পনা অনুযায়ী মালিকের বাড়িতে ডাকাতের ছদ্মবেশে হানা দেয়। লুট করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা। প্রতিশোধ হিসাবে মালিকের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তার হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
 
এভাবে রাজধানীর রামপুরায় সাবেক কর কমিশনার আবু তাহেরকে তার চাকরিচ্যুত গাড়ি চালক নাছির নৃশংসভাবে হত্যা করে। পুলিশ এক সপ্তাহ তদন্ত শেষে এ ঘটনায় নাছির ও তার সহযোগী রাসেল তালুকদারকে গ্রেফতার করে। তাদের আরো ৬ সহযোগী এখনও পলাতক রয়েছে। আজ দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের হাজির করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখায়।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, নাছিরই রামপুরায় আবু তাহেরের বাসায় ডাকাতির ‘হোতা’। গত ২ মার্চ ভোররাতে পূর্ব রামপুরার টিভি গেইট এলাকায় আবু তাহেরের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আটজন ডাকাত তিনতলা ঐ বাসার লোকজনের হাত-পা বেঁধে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৪৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ঐ বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তাহের। ঘটনার সময় বৃদ্ধ এই দম্পতি ছাড়া দুই গৃহকর্মী বাসায় ছিলেন।’
 
মনিরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতরা আবু তাহেরের মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছিল। ঘটনায় জড়িত নাছির ও তার সহযোগী রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডাকাতির ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।
 

তিনি আরও জানান, নয় মাস আবু তাহেরের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসাবে কাজ করার পর নাছির সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হন। হরতাল-অবরোধে নাছির গাড়ি চালাতে না চাইলে এ নিয়ে বাক বিতন্ডা হয়। এরপর নাছিরকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পাওনা টাকার জন্য আবু তাহের একটি চেক লিখে দিলে নাছির নগদ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। এসব কারণে নাছির ‘প্রতিশোধ নিতে’ ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় জড়িয়ে থাকতে পারেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা।