গ্যালারির তিনটি সারিতে একের পর এক বিছিয়ে রাখা অর্ধশতাধিক ‘কালি ও কলম’ পত্রিকা। পাতাজুড়ে রয়েছে নান্দনিক অলঙ্করণ। কোনটা কবিতা, কোনটা গল্পের অলংকরণ, কোনটা আবার প্রবন্ধ। লোকজ ও অবয়বধর্মী অলঙ্ককরণের পাশাপাশি রয়েছে হাতে লেখা অক্ষরবিন্যাসও। পত্রিকার পাতায় এসব সচিত্রকরণ করেছেন বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। ১১ বছর ধরে ‘কালি ও কলম’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি এসব অলঙ্করণ করেছেন। তার আঁকা ১২২টি রেখাচিত্র এখন ঝুলছে বেঙ্গল শিল্পালয়ের দেয়ালে।
গতকাল সোমবার ছিল এই সদ্যপ্রয়াত বরেণ্য এই শিল্পীর ৮৪তম জন্মদিন। এই উপলক্ষে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয় গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘কালি ও কলমে কাইয়ুম চৌধুরীর রেখালেখ্য’ শীর্ষক রেখাচিত্র প্রদর্শনী। একই দিনে গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শুরু হয়েছে তার অন্য একটি প্রদর্শনী। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংগ্রহশালা থেকে কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা ২৫ চিত্রকর্ম দিয়ে এই প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছে।
সন্ধ্যায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে দুইটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন যৌথভাবে ইমেরিটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান, চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী ও সমরজিত্ রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত ও শিল্পী পুত্র মইনুল ইসলাম জাবের।
‘কালি ও কলম’ সম্পাদক আবুল হাসনাত বলেন, তার রেখা দীপ্তিময়, উজ্জ্বল, সৃজনধারার অনুষঙ্গী। যেসব প্রবন্ধের নামলিপি করেছেন, তাতেও কাইয়ুম চৌধুরীর অক্ষরবিন্যাসের ধীশক্তি নানাভাবে উন্মোচিত। এই সকল সৃজনে তার বহু ভাবনা ও জিজ্ঞাসার ছাপ সুস্পষ্ট। একটি সংখ্যায় যে-সচিত্রকরণ করেছেন, পরবর্তী সংখ্যায় যেন তার এতটুকুও ছাপ না থাকে, তা নিয়ে ভেবে রেখাকে ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে বিন্যাস করেছেন।
প্রফেসর আনিসুজ্জামান বলেন, তিনি জীবনকে নতুন বোধ দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কাইয়ুম চৌধুরী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি আমাদের দু’হাত ভরে দিয়ে গেছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাকে ছাড়া এই প্রথম তার জন্মবার্ষিকী পালন করছি। তার শূন্যতা এত মানুষ থাকার পরেও যেন পূরণ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, কাইয়ুম চৌধুরীকে আমরা প্রথম পেয়েছি প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে। এ জন্য তিনি পুরস্কারও পেয়েছেন। শিল্পী স্বত্বাটি তার অস্তিত্বজুড়েই ছিল।
পিতার স্মৃতিচারণ করে মইনুল ইসলাম জাবের বলেন, কাইয়ুম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে আধুনিক বাঙালিকে দেখা ঠিক হবে না। তিনি পাশাপাশি দুই বিষয়কে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা বিশ্বে কম শিল্পীই একসঙ্গে করতে পেরেছেন।
রেখাচিত্রের প্রদর্শনী চলবে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা। অন্যদিকে বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের বিশেষ প্রদর্শনীটি চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত।