বিদ্যুত্ ভবনে টেন্ডার নিয়ে গোলাগুলি

রাজধানীর সচিবালয়ের পাশে বিদ্যুত্ ভবনে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগাভাগি (বিট মানি) নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলি হয়েছে। এসময় একজন গুলিবিদ্ধ ও চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভবনের নিচ তলার পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পুলিশ আল মামুন নামে একজনকে আটক করেছে।

সংঘর্ষ চলাকালে অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ কাই কাউস ও প্রকৌশলী সোলায়মানের গাড়ি ভাংচুর করা হয়। তাদের দুটি গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া ভাংচুর করা হয়েছে বিদ্যুত্ ভবনের নিচ তলার ফুলের টব, কাঁচ ও বেশ কিছু আসবাবপত্র।
সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) তেজগাঁওয়ে সাব-স্টেশন ভবনে প্রায় ৪৩ লাখ টাকার বর্ধিতকরণ কাজ এবং মাদারটেকে সাব-স্টেশনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৩৩ লাখ টাকার কাজের দরপত্র (টেন্ডার) জমার শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত। তিনটি স্থানে টেন্ডারের কমপক্ষে ৮টি সিডিউল বিক্রি হয়। তেজগাঁওয়ে ৩টি ও বিদ্যুত্ ভবনে ২টি টেন্ডার জমা পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৭৬ লাখ টাকার এই টেন্ডার কাজ ভাগাভাগি হয় যুবলীগের খালিদ গ্রুপ ও ছাত্রলীগের রহিম গ্রুপের মধ্যে। গতকাল রহিম গ্রুপ বিট মানি (দরপত্রে অংশ না নেয়ার জন্য কাজের ভাগের একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা) না পেয়ে মদিনা গ্রুপের পক্ষে টেন্ডার ফেলতে যায় ৭/৮ জন যুবক। তারা বিদ্যুত্ ভবনের তিন তলায় পৌঁছলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের বাধার মুখে পড়েন তারা। পরে উভয় গ্রুপের সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এতে মদিনা গ্রুপের মামুন গুলিবিদ্ধ হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া উভয় পক্ষে আরও চারজন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা ছিলেন নীরব। সংঘর্ষ শেষে দুই পক্ষের লোকজন চলে গেলে পুলিশ এসে তত্পরতা শুরু করে। পরে পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মামুনকে আটক দেখায়।
ঘটনার পর বিদ্যুত্ ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) দিলীপ কুমার সেন জানান, গোলাগুলির ঘটনার খবর শুনলেও কারা ঘটিয়েছেন তা জানেন না। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন জিডি করা হয়নি।

শাহবাগ থানার এসআই আশরাফ আহত আল মামুনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কোন পক্ষই মামলা করেনি।