৫ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

 
 
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের কর্মচারীর ছেলে খোরশেদ আলম হত্যা মামলায় পাঁচজনের ফাঁসি ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
 
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দুলাল ওরফে আনু, বিল্লাল, শরিফ মাহমুদ, আমজাদ ও ওয়ালীউল্লাহা। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সুমন, সালাউদ্দিন ও জাবেদ মিয়া। তাদেরও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
 
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আনু ও বিল্লাল আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অন্যরা জামিনে গিয়ে পলাতক। রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সাজা তাদের আত্মসমর্পণের দিন বা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের দিন থেকে কার্যকর হবে বলে।
 
এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. সাইয়েদুল করিম, নুরুল ইসলাম (পলাতক), মাসুম (পলাতক), আজাহার উদ্দিন (পলাতক), আবদুর রশিদ ওরফে কালু (পলাতক), ইকবাল হায়াত খান (পলাতক), আবদুল মতিনকে (পলাতক) বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
 
গত ২০০০ সালের ১০ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আজিজুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরের বছর ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহতের বাবা মিটফোর্ড হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে ইউনিয়নের নেতৃত্ব নিয়ে আসামিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ১৯৯৯ সালের ২২ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহতকে হাসপাতালের পেছনে গুরুতর জখম অবস্থায় দেখতে পান। পরে উদ্ধার করে মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে উলে­খ করে নিহতের পিতা সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় ১৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন।