কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেয়ার অভিযোগ আইএলও’র

গার্মেন্ট কারখানার নিরাপত্তা ত্রুটি পরিদর্শনে মালিকপক্ষ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিদর্শক দলকে কারখানায় ঢুকতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে পরিদর্শক দলের হাতে থাকা ঠিকানা অনুযায়ী বেশকিছু কারখানা খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে বৈঠকে পোশাক কারখানা সংস্কার প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তারা মনে করেন, এক কারখানায় একাধিকবার পরিদর্শনে উত্পাদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া কারখানা ভবনের কাঠামো উন্নয়ন তদারকিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গার্মেন্ট কারখানার সার্বিক বিষয় দেখভালের লক্ষ্যে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটির (ন্যাশনাল ট্রাইপার্টিয়েট প্ল্যান অব অ্যাকশন - এনটিপিএ) ওই বৈঠকে মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সরকার, মালিকপক্ষ ও আইএলও’র সমন্বয়ে ওই কমিটি গঠিত হয়েছে। কারখানার অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্য কিন্তু এ দুটি জোটের পরিদর্শনের আওতার বাইরে এমন ১ হাজার ৩৫৫টি কারখানা পরিদর্শন করছে ত্রিপক্ষীয় কমিটি।
আইএলও’র অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার ইত্তেফাককে বলেন, কিছু মালিক পরিদর্শনে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে আইএলও বলেছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে কোন কারখানার নাম বা সংখ্যা তারা বলেনি। মালিকপক্ষ এ ধরনের অনীহা দেখালে হবে না। কেননা ওই সব কারখানাকে একটি সাধারণ মানের (স্ট্যান্ডার্ড) অধীনে আসতে হবে। তবে তিনি বলেন, কিছু কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কিছু কারখানা স্থানান্তর হওয়ায় পরিদর্শক দল হয়তো তাদের পায় নি। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্য নয় এমন রপ্তানিমুখী কারখানা কীভাবে পরিদর্শনের আওতায় আনা যায় তা-ও ভাবা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ইত্তেফাককে বলেন, শিগগিরই বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত সব কারখানার হালনাগাদ তালিকা (বর্তমান ঠিকানাসহ) পরিদর্শক দলকে দেয়া হবে। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি, সরকারি কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ , বিকেএমইএর পরিচালক মনসুর আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস ও রাজউকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে অ্যাকর্ড ১ হাজার ১৮৩টি ও অ্যালায়েন্স ৬৪৭টি কারখানা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ওই সব কারখানার সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। কারখানা পরিদর্শন পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে ইতিমধ্যে বিজিএমইএ’র সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করেছে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। ওইসব বৈঠকে পরিদর্শন পরবর্তী সংস্কার কাজে কারখানাগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ১৪টি কারখানাকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে অ্যাকর্ড। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওইসব কারখানা সময়মত সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করলে তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কারখানার মালিকপক্ষ বলছেন, কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স আর্থিক সহায়তা করবে বললেও কার্যত তারা তা করছে না।