পুঁজিবাজারে তিন কর্মদিবস ধরে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। সঙ্গে কমে এসেছে লেনদেনের পরিমাণও। রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন—দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারের ওপর। এতে দিন-দিন সূচক ও লেনদেন কমে যাচ্ছে। লেনদেনের কেন্দ্রে ছিল শাহজিবাজার ও মবিল যমুনা। এ দুই কোম্পানি ঘিরে লেনদেন হয়েছে ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ শতাংশ।এ দিকে, দরহারানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল ব্যাংকিং খাতের। শীর্ষ দর হারানো ১০ কোম্পানির মধ্যে চারটিই ছিল ব্যাংকিং খাতের। কোম্পানিগুলো হলো—পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক। এ ছাড়া, ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলো ১ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর হারিয়েছে।
তথ্যে দেখা গেছে, রবিবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ২০ কমে ৪ হাজার ৫৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৫ কমে ১ হাজার ৭০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ৭৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ৩০৫টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৭টির, কমেছে ১৭৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের দর। অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৯ কমে ১৩ হাজার ৮৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২২ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ২ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২২২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির শেয়ারের দর।
এ দিকে, ডিএসই সূত্রে জানা গেছে—প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন কেবলসের শেয়ারদর বাড়ার কোনো কারণ নেই। শেয়ারটির অস্বাভাবিক দর বাড়ার পেছনে কারণ জানতে চেয়ে ডিএসইর পাঠানো নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে—গত ৫ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ১ দিন শেয়ারটির দর কমেছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর ১১৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৯ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত হয়। অর্থাত্, শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা ৫০ পয়সা বা ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।