চা শ্রমিকদের বহু কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের ৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও চা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করছেন শ্রমিকরা। দু’বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ২০০৯ সালের পর আর কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এককভাবেই মালিকপক্ষ সর্বশেষ চা শ্রমিকদের সর্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারণ করে। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, চিকিত্সা, বাসস্থানসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা মাসিক চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত থাকলেও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে তারা সক্রিয় নন বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।
চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, নির্বাচিত কমিটি ‘লেবার হাউস’ সংস্কারের নামে প্রথম দফা শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা ৪০ টাকা ও পরে নিয়মিত ১০ টাকা হারে আদায় করে নিচ্ছে। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধিসহ চা শ্রমিকদের কল্যাণে বাস্তবে কোনো কাজ করছে না। চা শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ৫ সদস্যের চা শ্রমিক পরিবারের দৈনিক ৩০০ টাকা হিসাবে মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারপার্সন মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জির মান্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়ান বলেন, আমাদের হাজার হাজার হেক্টর জমি চা বাগানের দখলে রয়েছে। অথচ চা বাগানের সব জমিতে চা চাষ করছে না। চা শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিকের গত দু’তিন বছরে এক টাকাও মজুরি বাড়েনি। এটি চা শ্রমিকদের জন্য অতীব দুঃখের বিষয়। চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী ‘ইত্তেফাককে’ বলেন, চা শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক ১০ টাকা হারে যে চাঁদা উত্তোলন হচ্ছে সেটি শ্রমিকদের কল্যাণে, প্রশাসনিক ও অফিস পরিচালনার জন্য ব্যয় হবে। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিপূর্বে বিটিএ’র সাথে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ১ম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কারণে কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনাধীন রয়েছে।