আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ সদর আসনের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, সালাহ উদ্দিন সম্পর্কে সরকার কিছুই জানে না। খালেদা জিয়ার ছত্রছায়ায় থেকেই সালাহ উদ্দিন অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও ও বিবৃতি পাঠিয়ে টিভিতে প্রচার করে নাশকতাকারীদের ইন্দন দিতো। তাকে আন্ডার গ্রাউন্ডে পাঠিয়ে খালেদা জিয়া নতুন নাটক সাজিয়েছেন। সালাহ উদ্দিনের খোঁজ খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে।
সোমবার গোপালগঞ্জ সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের নব নির্মিত ছাত্রী হোস্টেলের উদ্বোধন ও শামিমা পারভিন বার্ষিক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অশোক কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে মেজবাহ উদ্দিন এহসান, শিক্ষক রনজিত্ কুমার মজুমদারসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
শেখ সেলিম আরো বলেন, আল-কায়েদা, তালেবান, আইএসআইসহ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিরা যেভাবে গোপন স্থান থেকে ভিডিও টেপ, বিবৃতি দিয়ে নাশকতা উস্কে দেয়। ঠিক সেই কায়দায় সালাহ উদ্দিন বিবৃতি দিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে ও নাশকতা করে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশে উগ্রবাদি, জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের কোন ঠাঁই হবে না। এগুলো কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা খালেদা জিয়ার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে মন্তব্য করে বলেন, ‘কেউ তাকে রক্ষা করতে পারবে না। আইন সবার জন্য সমান। মামলার আগামী তারিখে হাজির না হলে আদালত তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নিদের্শ দিতে পারে। তখন সরকার তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করবে।’
শেখ সেলিম এমপি খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মিথ্যাচার করেছেন। মিথ্যাচার ধরা পড়ে যাবে ভয়ে সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের জবাব দেননি। পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তিনি তার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপাতে চেষ্টা করেছেন। আন্দোলন করে তিনি ভেবেছিলেন তৃতীয় শক্তি তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। তারপর মামলা বন্ধ করে দেবেন।’
আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ সেলিম বলেন, অন্দোলনের নামে নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে মারায় সাধারণ মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছে না। আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। সাংবিধানিক পন্থা ছাড়া সরকার পরিবর্তন হবে না। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হবে।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজা মিয়া বাটু, আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব আলী খান, শেখ মো. ইউসুফ আলী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।