সালাহউদ্দিনকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ কি?

 
 
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্ধারে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট?
 
সোমবার রুল শুনানির একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলে, ‘পুলিশের চারটি সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে তাদের হেফাজতে সালাহউদ্দিন নেই। কিন্তু তিনি কার হেফাজতে আছেন? তাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি পদক্ষেপ নিয়েছে? কোনো অভিযান পরিচালনা করেছে কিনা এ ব্যাপারে প্রতিবেদনে তো কিছু বলা হয়নি। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ইতোমধ্যেই সালাহউদ্দিনকে খুঁজে বের করতে র‌্যাব ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চেক পোস্ট স্থাপন, তল্লাশি কার্যক্রম, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযান পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংস্থার সকল ব্যাটালিয়ন ও ইন্টিলিজেন্স উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চারটি সংস্থার মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) প্রতিবেদনে বলেছে, সালাহউদ্দিনের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে তাদের কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, হাইকোর্ট রুল জারি না করলেও পুলিশ সালাউদ্দিনকে খুঁজত। কারণ এটা তাদের দায়িত্ব। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের হস্তক্ষেপের পূর্বেই সালাহউদ্দিনের নিখোঁজের বিষয়টি একটি পত্রিকায় প্রকাশের পর ডিএমপির পক্ষ থেকে ঢাকায় পুলিশের বিভিন্ন জোনের প্রধানদের কাছে চিঠি লেখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই চিঠিতে সালাহউদ্দিনকে খুঁজে বের করা ও তাকে যদি কেউ অন্যায়ভাবে আটকে রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরা পশ্চিম থানার পক্ষ থেকেও একটি জিডিও করা হয়।
এ পর্যায়ে আদালত বলে, ‘এই জিডির অনুসন্ধান কতদিন চলবে?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘কোনো কোনো ফৌজদারি মামলার তদন্ত শেষ হতে ১০ বছর লেগে যায়। দু’জন সাংবাদিক (সাগর-রুনি) মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হয়নি।’ এ সময় আদালত সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের উদ্দেশে বলেন, কাল (মঙ্গলবার) থেকে অবকাশ শুরু হচ্ছে। আজ তো কোর্টের কার্য সময় শেষ। তখন ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘সরকার পক্ষ যেসব প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে তার একটি কপি আধা ঘন্টা আগে আমাকে দেয়া হয়েছে। আমি পড়াশোনা করে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের দেয়া চারটি সিদ্ধান্ত বের করেছি। শুনানিতে এগুলো উপস্থাপন করব। এ জন্য সময় দরকার। বিশেষ করে লতিফ মির্জার কেসটি (ডিটেনশন সংক্রান্ত) আমার সামনেই রয়েছে।’ পরে আদালত বলে, ‘এ ধরনের কেস তো এখন সচরাচর হয় না।’ জবাবে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকার এখন খুবই চালাক হয়ে গেছে। তারা এখন আর ডিটেনশন দেয় না। হয় ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করে, না হয় গুম করে কিংবা গুলি করে মেরে ফেলে।’ এরপরই আদালত ৮ এপ্রিল এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন।
 
গত ১২ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সালাহউদ্দিনকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজিরের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলো। আজ রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। শুনানির শুরুতেই র‌্যাব, ডিএমপি কমিশনার, সিআইডি ও এসবির পক্ষ থেকে পৃথক চারটি প্রতিবেদন আদালতে এফিডেভিট আকারে দাখিল করা হয়।
এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেই সালাহউদ্দিন। তাকে উদ্ধারে সর্বাত্নক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন, ‘সালাহউদ্দিন নিখোঁজের ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার স্ত্রী থানায় কোনো জিডি করেননি।’ এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আপনারা বলছেন তিনি জিডি করেননি। আবার আবেদনে বলা হয়েছে তারা থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু জিডি নেওয়া হয়নি। কোনটি সঠিক? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয়। নিখোঁজ বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারীর উচিত ছিলো পুলিশকে অবহিত করা।  অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ পর্যায়ে রুল শুনানি আর এগিয়ে নেয়া ঠিক হবে না। এ আবেদনের ওপরও কোনো অন্তবর্তিকালীন আদেশ দেয়া ঠিক হবে না।
হাসিনা আহমেদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজউদ্দিন ফকির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরউল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।