হরতালেও কর্মচঞ্চল রাজধানী

 
রাজধানীতে বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা হরতালে মঙ্গলবারও কোনো সাড়া ছিল না। জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হরতালের সমর্থনে কাউকে পিকেটিং করতেও দেখা যায়নি। এদিকে হরতালের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হতে শুরু করেছে। এ কর্মসূচি উপেক্ষা করে ক্রমেই কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে রাজধানী।
 
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিনগর বাজার থেকে কেনাকাটা শেষ করে বের হচ্ছিলেন ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন আহমেদ। চলমান হরতাল কর্মসূচী নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, হরতাল কেন পালন করব। এ হরতালে তো জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের কোনো কথা নেই। একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতেই এ হরতাল কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্ত্বরের কাছে একটি শপিং মলে যাওয়া ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট হরতাল-অবরোধ ডেকে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জনগণের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গুলশানের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে শপিংশেষে গৃহিণী সুরাইয়া বেগম বলেন, এভাবে জনগণকে জিম্মি রেখে হরতাল আহবানকারীদের লাভ কী? আমাদেরতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। থেমে থাকার উপায় নেই। সন্তানদের পড়শোনার অবস্থা করুণ। তাই স্বাভাবিকভাবেই জীবনের প্রয়োজনে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছি।
 

ছুটির দিনের বিকালে ঘুরতে বেড়ানো চাকরিজীবি আব্দুল বারী বলেন, নিত্য শঙ্কা নিয়ে অফিস করতে হয়। কিন্তু সন্তানদের পড়াশোনা হচ্ছে না। তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশু-কিশোরের মনে আনন্দের বদলে ভীতি জায়গা করে নিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতাদেরও তো সন্তান রয়েছে। তারা কি একবারও এ শিশুদের কথা ভাবেন না?