নির্ভয় নির্ভার বাংলাদেশ

২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী পুরো অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকের সংখ্যা মাত্র ২৭ হাজার। পক্ষান্তরে দেশটির শুধু ভিক্টোরিয়া প্রদেশেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। ফলে আগামীকাল সেই ভিক্টোরিয়ার রাজধানী মেলবোর্নে গ্যালারির দখল যে ভারতীয় সমর্থকদের দখলে চলে যাবে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের একজন সমর্থকও যদি মাঠে পৌঁছান, নিশ্চিত থাকতে পারেন, তিনি একাই মাতিয়ে দিতে পারেন মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

আগামীকালকের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সমর্থকদের কাছ থেকে জয়ের জন্য এই মাতিয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা যেমন চাইছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তেমনই নিজেরাও টগবগ করছেন, নতুন ইতিহাস তৈরির রোমাঞ্চে।
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজিতে এই স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টা থেকে।
জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা, সাবেক ক্রিকেটার বা কর্মকর্তা—সবাই একবাক্যে বলছেন, ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচ হবে অনেকটাই স্নায়ুর পরীক্ষা। আর আপাতত এ পরীক্ষায় নিজেদেরই এগিয়ে রাখছেন তারা। এগিয়ে রাখার যুক্তিটাও পরিষ্কার—বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই।
২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়েই সুপার এইটে পা রাখা দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার যেমন একটি ভারতীয় পত্রিকাকে বলেছেন, সেমিফাইনালে ওঠার এবং ট্রফি ধরে রাখার দারুণ চাপে থাকবে ভারত। বিপরীতে বাংলাদেশ যেহেতু তাদের লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে, তাই তাদের ওপরে কোনো চাপ দেখছেন না তিনি।
একইরকম মনে করছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তার মতে, এমসিজিতে লড়াইটা হবে দু’দলের চাপ নিতে পারার পরীক্ষা। আর সে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চেয়ে একটুও পিছিয়ে দেখছেন না তিনি।
যারা খেলবেন, সেই ক্রিকেটাররা কী বলছেন?
জাতীয় দলের সহঅধিনায়ক ও বর্তমান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলছেন, তারা খুবই নির্ভার ও নির্ভয়ে আছেন। সাকিবের তত্ত্ব হলো, ২০০৭ সালে তারা ‘ফিয়ারলেস’ ক্রিকেট খেলায় ভারত ও তখনকার বিশ্বসেরা দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পেরেছিলেন। আর এবার বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তারা ওই ‘ব্র্যান্ডে’র ক্রিকেট খেলছেন বলে দাবি করলেন সাকিব,        ‘আমার ধারণা, দুই বারই (বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে) আমরা নির্ভয় ক্রিকেট খেলেছি। আমরা সেই ব্র্যান্ডের ক্রিকেটটাই আবার খেলতে চাই। বড় ব্যাপার হল, এবার বিশ্বকাপে আমরা সেই নির্ভয় ক্রিকেটটাই ফিরিয়ে এনেছি। আমরা সব দলের বিপক্ষেই এই স্টাইলে খেলছি।’

ভারতীয় দল ও নিজেদের দলের তুলনা করতে গিয়ে সাকিব ভারতকে কাগজে-কলমে এগিয়েই রাখছেন। কিন্তু এই সৌজন্যটা দেখানোর পরেই পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, তারাও বিশ্বকাপে বেড়াতে আসেননি। যোগ্যতা দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছেন। আর এ পর্যায়ে এসে দুই দলের ব্যবধান তিনি অন্তত সেভাবে দেখতে পাচ্ছেন না, ‘ভারতীয় দল তো ভালো দল। তারা এখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল। তাদের দলে সেরা কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরাও বিশ্বকাপ খেলতেই এসেছি। আমরা ভালো পারফরম করেই কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন যথেষ্ট উঁচুতে। আমরা এখন এই ম্যাচ খেলার ও জেতার জন্য মুখিয়ে আছি।’