সাত খুন : নূর হোসেনকে ফেরত আনা অনিশ্চিত

নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও এডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাত খুনের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অন্যতম অভিযুক্ত কাউন্সিলর নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফেরত আনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নূর হোসেনের পরিবর্তে বাংলাদেশে আটক ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপচেটিয়াসহ কয়েকজনকে ফেরত চেয়েছে দেশটি। কিন্তু অনুপচেটিয়া যে মাপের বন্দি নূর হোসেন সেই মাপের নন। বন্দি বিনিময়ের জন্য বন্দিদের যে সমান সমান অবস্থান থাকা উচিত, এক্ষেত্রে সেটা দেখা যাচ্ছে না। তাই এই দাবির পরিবর্তে অন্য পথ বের করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ আছে, নূর হোসেনের সঙ্গে সরকারের একজন উপদেষ্টাসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সুবিধাবাদী ব্যক্তির সখ্যতা রয়েছে। নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র করার জন্য ওই উপদেষ্টা চিঠি পর্যন্ত দিয়ে সুপারিশ করেছিলেন। সাত খুনের ঘটনার পর এ চিঠির বিষয়টি প্রকাশ পায়। নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনা হলে ওই সব নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেনসহ নানা তথ্য বের হয়ে পড়বে। এ কারণেও নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায়ও কূটনৈতিক পর্যায় থেকে নূর হোসেনকে ফেরত আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নূর হোসেনকে ‘শিগগির’ দেশে ফেরত আনা হবে বলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। এভাবে বহুদিন পেরিয়ে গেছে, তবুও তাকে ফেরত আনা হয়নি।
সাত খুনের মামলা তদন্ত কাজ শেষ হলেও নূর হোসেনের জন্য চার মাস অপেক্ষা করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা মনে করেছিলেন, নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে এবং ইতিমধ্যে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তার বক্তব্য জানা যাবে। 
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ৭ খুনের মোটিভ হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, পরিবহন সেক্টর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মিলকারখানায় চাঁদাবাজি, শীতলক্ষ্যা নদীর বালু উত্তোলন বাণিজ্য, আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকার আধিপত্য বিস্তার।

গত বছর ২৭ এপ্রিল ৭ খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। ওই বছর ১৪ জুন কলকাতায় নূর হোসেন গ্রেফতার হন। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগের মামলায় নূর হোসেনের বিচার চলছে কলকাতার আদালতে।