ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ

দেখে এলাম নাসা

স্বপ্ন সবাই দেখতে জানে। সবার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় না। তবে আমাদের নাসায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই ‘আমরা’ বলতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ২৬ জনের একটি দল। যাওয়ার আগ থেকেই মহাকাশ, গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে আমাদের খুদে মনে ছিল হাজারো প্রশ্ন। নাসায় গিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর মেলানোর চেষ্টা করেছি। জেনেছি মহাবিশ্বের হাজারো রহস্যের কথা। শাহীন স্পেস সেন্টারের অধীনে ২৬ জন যাত্রা শুরু করি নাসার উদ্দেশে। ১ মার্চ আমরা পা রাখলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরলেন্ডোতে। যেখানে ছিল আমাদের সকল জানা-অজানা প্রশ্নের শেষ দ্বার বিন্দু। ৩ মার্চ পরিদর্শন করলাম নাসার এটিএক্স। আমাদের দলনেতা ছিলেন আসমা আমিন ও গুলশান রহমান। সঙ্গে ছিলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা কামরুন্নাহার সিদ্দিকি এবং জিনাত হোসেন। এটিএক্সের ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কর্মরত মি. ডিয়েনা সবাইকে স্বাগত জানান এবং দিক-নির্দেশনা দেন। দলটিকে তিনটি উপদলে ভাগ করে দেন।

প্রথম দলের ইনচার্জ ছিলেন ডিয়েনা, দ্বিতীয় দলে ক্যাসেন্ডা এবং তৃতীয় দলে মিস ইন্ডিয়া ছিলেন। আমাদের শেখানো হল মহাকাশে একজন নভোচারী কীভাবে নিজেকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলেন। আমরা উপভোগ করলাম নভোচারীর জীবন! দেখানো হলো কিভাবে একজন নভোচারী ১০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি ক্যাপসুল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং কিভাবে একটি রকেটকে নিখুঁতভাবে অবতরণ করাতে হয়। জানলাম জিরো গ্র্যাভিটিতে কিভাবে নিজের শরীরের ভারসাম্যকে বজায় রাখতে হয়।
সর্বশেষ আমাদেরকে একটি মিশন দেয়া হল। এই মিশনের মাধ্যমে শিখানো হয়েছে কিভাবে একজন নভোচারী তার গবেষণাকে বাস্তবায়ন করে থাকেন। এই মিশনে ছিলো একজন কমান্ডার, একজন পাইলট, তিনজন মিশন স্পেশালিস্ট, দুইজন ফ্লাইট কন্ট্রোলার। এই প্রাথমিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখেছি কিভাবে একজন নভোচারী বিভিন্ন কেমিক্যাল রিয়েকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রহের নানা ধরনের পদার্থ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। পরে আমাদের প্রশিক্ষণের সনদ হাতে তুলে দেন জন ম্যাকব্রিজ। পরে নভোচারীদের সংগৃহীত বিভিন্ন দ্রব্যাদি যাদুঘর ঘুরে দেখেছি। পরের দিন সকালে কেন্ডি স্পেস সেন্টারে নভোচারী গিবসনের সাথে দুপুরের ভোজন উপভোগ করি এবং হাজারো রহস্যের উত্তর খুঁজতে শুরু করি। এবার যাত্রা শুরু হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে। পথে উপভোগ করলাম মায়ামি সমুদ্র সৈকতের মনোরম দৃশ্য। ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়াল পরিদর্শন এবং নিউইয়র্কের ইমপ্রিরিয়র বিল্ডিং ও টাইম স্কয়ার এবং স্ট্যাচু অফ লিবার্টি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে যাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে।

এই সফর আমাদের জীবন যুদ্ধে চলার পথের সকল অভিযানে অনুপ্রেরণা যোগাবে। ধন্যবাদ জানাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধান শিক্ষকা মন্জু আরা বেগম ও সুফিয়া খাতুনকে। ধন্যবাদ শাহীন স্পেস সেন্টারকে।