নাগেশ্বরী সীমান্ত থেকে ভারতীয় মাদক চোরাকারবারীরা এক এসআইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর দুই ইউপি চেয়ারম্যান ও ভারতের প্রধান এবং পঞ্চায়েতের সমঝোতায় ফেরত দিয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার ওসি ও তিন এসআইসহ সাতজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারা হলেন- নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাঈদ, এসআই আরিফুর রহমান, এসআই শামছুল আলম, এসআই আলমগীর হোসেন, এএসআই হাসান শেখ, কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে বুধবার কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেশ্বরী থানার এসআই শামছুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল সাদা পোশাকে মাদকের চালান আটক করতে মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটায় উপজেলার রামখানা ও ভূরুঙ্গামারী দক্ষিণ শিংঝাড় সীমান্ত ত্রিমোহীনি ঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় চোরকারবারীরা এসআই শামছুল আলম ও কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৫২ সাব পিলার আট এর পাশ দিয়ে জোরপূর্বক ধরে ভারতীয় নো ম্যান্স ল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে আসে। পরে ভারতীয় অটিয়ালডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্প এলাকার নো ম্যান্স ল্যান্ডের একটি বাীিতে তারা এসআই শামছুল আলমকে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দিন, এএসপি (সার্কেল) মাসুদ আলম, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভূরুঙ্গামারীর জয়মনিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ, নাগেশ্বরীর রামখানা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান তালুকদার এর মাধ্যমে ভারতীয় আটিয়ালডাঙ্গার প্রধান হরিকান্ত মালাকার ও পঞ্চায়েত আব্দুল আজিজর সাথে যোগাযোগ করে। তাদের মধ্যস্থতায় তিন ঘন্টা পর রাত পৌনে ১১টায় ভারতীয় মাদক চোরাকারবারীরা এসআই শামছুল আলমকে রামখানা বিজিবির টহলরত সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। রামখানা বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ হাবিলদার আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন বলতে রাজি হননি।
পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট সাত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।