বাগেরহাটের রামপালে এক বিধবা নারীকে গণধর্ষণের পর ছয়দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন চার যুবক। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশি অভিযানে ঐ নারীকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে রামপাল উপজেলার কুমারখালী গ্রাম থেকে অবরুদ্ধ ও আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। পরে আজ বুধবার দুপুরে হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ওই নারী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে আমি ও আমার দেবর পাশ্ববর্তী ডাকরা গ্রামের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে (মহানামযজ্ঞ) যাই। সেখানে গান শোনার একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে আসলে অন্ধকারে আগেই ওত্ত পেতে থাকা কয়েক যুবক আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গে থাকা আমার দেবর তাদের বাধা দিতে গেলে ওই যুবকরা তাঁকেও বেদম প্রহার করে ফেলে রেখে আমাকে তুলে নদীতে একটি নৌকায় নিয়ে যায়। সেখানে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পাশ্ববর্তী কুমারখালী গ্রামে আমার এক বোনের বাড়িতে নিয়ে রেখে দেয়। আমি যাতে এই বিষয়টি কাউকে না জানাতে পারি সেজন্য গত বৃহষ্পতিবার রাত থেকেই ওই যুবকরা আমাকে সেখানে নজরবন্দি করে রাখে। কিন্তু মঙ্গলবার আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম ঘটনাটি লোকমুখে জানতে পেরে তার লোক পাঠিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে উদ্ধার করে।
মলিকেবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম বলেন, ডাকরা গ্রামের কতিপয় যুবক আমার ইউনিয়নের স্বামীহারা এক নারীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এই সংবাদ জানতে পেরে আমার লোকজন সেখানে যায়। আমার লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই যুবকরা পালিয়ে গেলে তাঁকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।