কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা

মানববর্জ্যের জৈবসার কৃষিতে ভূমিকা রাখতে পারে

 
দেশে মানববর্জ্য থেকে জৈবসার উত্পাদন করে তা কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার করার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এ জৈবসার আমাদের কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তবে এর জন্য ব্যাপক সচেতনতা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। গতকাল বুধবার লালমাটিয়ায় এ বিষয়ে এনজিও ফোরাম আয়োজিত এক গবেষণাপত্র প্রকাশ উপলক্ষে কর্মশালায় এসব মতামত ব্যক্ত করেন তারা।
‘ভ্যালু অ্যাট দ্য অ্যান্ড অব দ্য স্যানিটেশন ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে ছয়টি উপস্থাপনার মাধ্যমে মানববর্জ্য ব্যবহার করে জৈবসার উত্পাদন, ব্যবহার ও প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাবনার কথা জানানো হয়। ব্র্যাক ওয়াশ প্রোগ্রাম ও আইআরসি নেদারল্যান্ডস-এর অর্থায়নে গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণা পরিচালিত হয় ইউনিভার্সিটি অব লিডস (ইউকে), বুয়েট, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ ও ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট ইমি (শ্রীলঙ্কা) দ্বারা। ময়মনসিংহ, খুলনা, ফেনী ও নোয়াখালীর ৪টি উপজেলায় (ভালুকা, ফুলতলা, ছাগলনাইয়া, সেনবাগ) এ গবেষণা পরিচালিত হয়।
গবেষণায় ১৪৪০টি পরিবারের মধ্যে ব্র্যাক ওয়াশ প্রদত্ত সিঙ্গেল পিট ল্যাট্রিন ব্যবহারকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদের কাছ থেকে কিভাবে এ ল্যাট্রিন ব্যবহার হয়, পিট ভর্তি হতে কত সময় লাগে, পিট পরিষ্কারের খরচ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর পর দুই উপজেলায় (ভালুকা ও ফুলতলা) বিভিন্ন ধরনের পাম্পের সাহায্যে কিভাবে সহজে পিট পরিষ্কার করা যায় সে ব্যাপারে গবেষণা চালানো হয়েছে। এরপর দেশের ৫টি উপজেলা থেকে পিটবর্জ্য (মানববর্জ্য) সংগ্রহ করে সার তৈরি করা হয়। রাজেন্দ্রপুরের একটি সার কারখানায় এ গবেষণা করা হয়। উত্পাদিত সার ব্যবহার করে বুয়েট-এ পালংশাক-এর উত্পাদন পরীক্ষা করা হয় ও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।
এছাড়া গবেষক দল বাংলাদেশে জৈব সারের অবস্থা, মানববর্জ্যভিত্তিক জৈবসারের সম্ভাবনা, সরকারি উদ্যোগ-এর অভাব, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তা উপস্থাপন করেন। গ্রামাঞ্চলে মানববর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, রোগ-জীবাণুর বিস্তার রোধ করা, মানববর্জ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সার-এ রূপান্তর করা তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য বলে তারা জানান । গবেষক দল ডায়াফ্রাম পাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে পিট ল্যাট্রিন পরিষ্কার করা, প্রক্রিয়ায় উত্পন্ন সার নিরাপদ ও মাটির পুষ্টিমান বৃদ্ধিতে সহায়ক বিধায় তা ব্যবহারে সবাইকে উত্সাহিত করা, এ সারের জন্য অঞ্চলভিত্তিক সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা, সরকারকে সারের লাইসেন্সিং ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করে সংশ্লিষ্টদের এ কাজে উত্সাহিত করার সুপারিশ করে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ মাস এ গবেষণা চলে। অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ফাস্ট সেক্রেটারি কার্নেল ডিগ্রোট, ব্র্যাকের ওয়াটার, স্যানিটেশন এন্ড হাইজেনিক বিভাগের প্রতিনিধি মিলন ক্রান্তি বড়ুয়া, লিডস ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি ড. মিলার অ্যারোনসো কামারগো ভ্যালিরো বক্তব্য রাখেন।