স্বপ্নযাত্রা বিতর্কের ভেতর দিয়ে থেমে যাওয়ায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আগামীকাল হয়তো একটু ক্ষোভ নিয়ে পা রাখবেন দেশের মাটিতে। তবে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে আসার কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে তাদের আবার ক্রিকেটের প্রস্তুতি।
শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত করেছে, এর আগে নানারকম দোলাচলে থাকা পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর শেষ পর্যন্ত হচ্ছে। আর সেই সফর করতে আগামী ১৫ এপ্রিলই ঢাকা পৌছাবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এমনটা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস নিজেই।
পাকিস্তানের এই সফরটি নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভবিষ্যত সফরসূচীতে (এফটিপি) নির্ধারিতই ছিলো। এই সফর চূড়ান্ত হয় মূলত পিসিবি সভাপতি পদে শাহরিয়ার খানের ফেরার পর। বিসিবির সঙ্গে শীতল সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে তিনি ঢাকা সফর করেছিলেন। তখনই এই সফরের চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই পাকিস্তান এই সফরের জন্য নানা রকম শর্ত বেধে দেয়। তারা মূলত দুটি দাবি করে—সফরে বিসিবির লাভের পঞ্চাশ শতাংশ তাদের দিতে হবে এবং সফরের বিনিময়ে বাংলাদেশের কোনো একটি বয়সভিত্তিক বা মেয়েদের দলের সফর নিশ্চিত করতে হবে।
পাকিস্তানের এই দাবিদাওয়া শোনামাত্রই উড়িয়ে দেয় বিসিবি। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তখনই পরিষ্কার করে বলেন, কোনো ধরণের শর্ত মেনে সফর চান না তারা।
সর্বশেষ জানা গেল, পাকিস্তান নিজে থেকেই নমনীয়তা দেখিয়ে সফরে রাজী হয়েছে। এ জন্য বিসিবি অবশ্য কিছু সৌজন্য তাদের সঙ্গে করবে বলে অন্য কিছু সূত্র থেকে জানা গেল।
জালাল ইউনুস বলেন, পিসিবি ও বিসিবি সভাপতির সফরের ব্যাপারে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুরে পিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। এটুকু বলতে পারি যে, পাকিস্তান বাংলাদেশে আসছে। সেই আসার আনুমানিক তারিখ বলা যায় ১৫ এপ্রিল।’
সফরে পাকিস্তানের দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা।
যতদূর জানা গেছে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে সফর এবং ২২ এপ্রিল দু দলের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। এই ব্যাপারের কিছু চূড়ান্ত না হলেও ভেন্যু ও সফরের আকৃতি নিয়ে কথা বললেন জালাল ইউনুস, ‘যেমনটা আগে থেকেই ঠিক আছে যে, তিনটি ওয়ানডে, দুটি টেস্ট ও একটি টি-টোয়েন্টি হবে এই সিরিজে।
খেলা হবে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের তিনটি ভেন্যুতে। তবে কবে কোন ভেন্যুতে কোন খেলা, সেটা চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলেই সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’