নির্বাচনে অংশ নিয়ে কর্মসূচি শিথিল করার চিন্তা বিএনপির

 
 
আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ প্রশ্নে বিএনপি ইতিবাচক মনোভাবে আসলেও এই উপলক্ষে আন্দোলন থামাতে রাজি নন দলের হাইকমান্ড। নির্বাচনে যদি তারা অংশ নেন তবে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম নগরীতে অবরোধ অব্যাহত রেখে শুধু হরতাল শিথিল করার চিন্তাভাবনা আছে দলের। তবে সারাদেশে যথারীতি হরতাল এবং অবরোধ চলমান গতিতে চলবে। গতকাল শুক্রবার দলের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা এ কথা জানান।
সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এখনো। তবে বেগম জিয়া এবং দলের অধিকাংশ নেতাই বিনা চ্যালেঞ্জে এই নির্বাচন ছাড়তে রাজি নন।
দলের হাইকমান্ড মনে করেন, আন্দোলন এবং নির্বাচন সমানতালে চলবে। নির্বাচনে নামলে আগামী ২৬ মার্চের পর রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রাম শহরের হরতাল তুলে নেয়া হবে। কারণ তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র বাছাই ১ ও ২ এপ্রিল। প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে থেকে হরতাল না রাখার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। প্রার্থী নিয়েও দলে আলোচনা চলছে।
বিএনপির গুলশান অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, দলীয় চেয়ারপার্সন যে কোন পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তিনি মনে করেন, আন্দোলন থেকে ফিরে গেলে তা হবে ’ভুল’ সিদ্ধান্ত।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আজ দেশের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আমাদের জাতীয় নির্বাচন নিয়েই বেশি ভাবতে হবে। মাহবুবুর রহমান বলেন, আমার ধারণা বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সিটি নির্বাচনী এলাকায় আন্দোলন শিথিল হতে পারে। তবে সারাদেশের আন্দোলন এই নির্বাচনের ইস্যুতে বন্ধ হওয়ার কোন কারণ দেখি না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিটি নির্বাচন আর আন্দোলন দুটি পৃথক বিষয়। আন্দোলন তার লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলবে।
এদিকে সিটি নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক-এমন খবরে দলে লবিং চলছে পুরোদমে। গুলশানে অবস্থানরত নেতা ও কর্মকর্তাদের ফোন করছেন অনেকে। আবার যে সব সিনিয়র নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন তাদের কাছেও ধর্না দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
ইতিমধ্যেই ঢাকা সিটির উত্তরে আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং দক্ষিণে দলের ৬ বছর কারাগারে বন্দি থাকা নেতা সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিবুন নবি খান সোহেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম প্রমুখের পক্ষে লবিং চলছে বলে জানা গেছে।
সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে নির্বাচনে অংশ নিবে বিএনপি : অধ্যাপক এমাজউদ্দিন
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেলে আসন্ন ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে বিএনপি ইতিবাচক চিন্তা করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি গতকাল শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন। এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়াপারসন আমাদের জানিয়েছেন- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তার দল ইতিবাচক চিন্তা করবে।’নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলনের রূপরেখায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক ড. মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক তাজমেরী এসএ ইসলাম, অধ্যাপক মামুন হোসেন, তাহমিনা আক্তার পপি, বোরহান উদ্দিন, ওবায়দুল ইসলাম ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইউম  উপস্থিত ছিলেন।