পুঁজিবাজারে দফায় দফায় শেয়ারের দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গত জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুঁজিবাজারের দরপতন শুরু হয়েছে। মাঝে কয়েকদিন দরপতন থামলেও তা স্থায়ী হয়নি। এখনও চলছে টানা দরপতন। এতে শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। ফলে দরপতন হচ্ছে, লেনদেনও নেমে এসেছে তলানীতে। এতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো খরচ উঠাতে পারছে না। বেশিরভাগ মালিকই পড়েছেন বিপাকে। এমনকি স্টক এক্সচেঞ্জের দৈনন্দিন খরচ উঠাতে অন্তত চারশ’ কোটি টাকা লেনদেন হতে হয়। সেটিও এখন হচ্ছে না। ফলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাই চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ছিল ৪ হাজার ৯৬৯ পয়েন্ট। গত ১৯ মার্চ তা ৪ হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে নেমে আসে। অর্থাত্ আড়াই মাসে ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৫০১ পয়েন্ট। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ দেয়। ফলে জানুয়ারি মাস থেকে প্রতিবছরই বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু এ বছর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে বাজারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরিবর্তে কমেছে ৫০১ পয়েন্ট। এতে বিনিয়োগকারীরা চরমভাবে হতাশ হয়েছেন।
এদিকে বাজারের বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতার কারণ হিসেবে বাজার বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় কমে যাবে। তাই বাজারে দফায় দফায় দরপতন হয়েছে। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে ডিএসইর লেনদেন তিনশ’ কোটি টাকারও নিচে নেমে এসেছে। এমনকি গেল সপ্তাহে লেনদেন নেমে এসেছে ১৬১ কোটি টাকায়। এভাবে ব্যাপকভাবে লেনদেন কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউসের খরচ উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে তারা খরচ উঠাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। তার মধ্যে গত অক্টোবরে লেনদেন কিছুটা ভালো হওয়ায় তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার লেনদেন কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউসের মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
রাজধানীর মতিঝিলের একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় হাউস চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনার খরচ উঠাতে দৈনিক অন্তত চারশ’ কোটি টাকা লেনদেন হতে হয়। সেখানে বাজারে লেনদেন হচ্ছে তিনশ’ কোটি টাকারও কম। ফলে স্টক এক্সচেঞ্জকে খরচ কমানোর দিকেই নজর দিতে হচ্ছে। তবে একটি সূত্র দাবি করেছে, স্টক এক্সচেঞ্জ এফডিআরের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুদ থেকে ভালো অর্থ উপার্জন করে। তাই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা না। প্রসঙ্গত, স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউসের আয়ের অন্যতম উত্সই হচ্ছে বাজারে লেনদেনের উপর প্রাপ্ত কমিশন।