সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৫ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছেন।
 
রবিবার বিকালে ফিতা কেটে এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ৯ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
 
উদ্বোধন শেষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান প্রদর্শনী স্থলের ওপর দিয়ে উড়ে যায় এবং সেখান থেকে ছত্রী সেনারা সাফল্যজনকভাবে প্যারেড স্কয়ারে অবতরণ করেন। প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধে তিন বাহিনীর অবদান স্মরণ করিয়ে দিতে স্টলের ব্যবস্থা করা হয়। সেনা বাহিনীর তিনটি স্টলের নাম যথাক্রমে মুক্তির সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু, ইতিহাস কথা বলে এবং যে অস্ত্রে মুক্ত স্বদেশ। নৌ বাহিনীর স্টলের নাম ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আমাদের নৌ বাহিনী। বিমান বাহিনীর স্টলের নাম চেতনা ও প্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধ।  
 
পরে প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন হালকা ও ভারি অস্ত্র প্রত্যক্ষ করেন। এসময় তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও অবদান সংক্রান্ত প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেন।
 
এছাড়া তিনি গত ছয় বছর বর্তমান সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন সংক্রান্ত স্টলও ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান সংক্রান্ত প্রদর্শনীও দেখেন।
 
শেখ হাসিনা মিগ-২৯ জঙ্গি বিমানের বর্ণাঢ্য মহড়াও প্রত্যক্ষ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী স্থল জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, নৌ বাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবীব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ এনামুল বারী এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তাকে স্বাগত জানান।
 
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সচিব, কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী আগামী ২৬ মার্চ ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
 
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দিন প্রদর্শনী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবার এবং সেনানিবাসে অবস্থিত স্কুল ও কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। ৩১ মার্চ প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে ঢাকা মহানগরের স্কুল ও কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর লক্ষে এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।