রপ্তানিমুখী ১২৩ কারখানার ব্যাংক হিসাব জব্দ

 
বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে রপ্তানিমুখী ১২৩টি শিল্প-কারখানার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। সেইসঙ্গে এসব কারখানার ৩৮৫ পরিচালকের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। বন্ড লাইসেন্স সুবিধার অপব্যবহার করে ৩৩৯ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সমপ্রতি এসব কারখানার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। জব্দ হওয়া বেশিরভাগই রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা। এর বাইরে প্লাস্টিকসহ প্যাকেজিং খাতের কারখানাও রয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। হিসাব জব্দ হওয়া এসব কারখানা ও পরিচালকের নাম বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
জব্দ হওয়া এসব কারখানার মধ্যে ৮২টি গার্মেন্টস খাতের। বাদবাকি কারখানার মধ্যে প্যাকেজিং, প্লাস্টিক কারখানাও রয়েছে। রপ্তানিমুখী কারখানা পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো এসব কাঁচামাল দিয়ে উত্পাদিত পণ্য পুরোটাই রপ্তানি করতে হবে। বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল বা পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে না। সেইসঙ্গে কারখানা চালু রাখা ও বার্ষিক অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হয়। কিন্তু হিসাব জব্দ হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ১৬ই মার্চ কাস্টমস বন্ড কমিশনার ড. মো. শহীদুল ইসলাম কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে যেসব কারখানার বন্ড লাইসেন্স চালু রয়েছে কেবলমাত্র তাদের ঋণপত্র খোলার অনুরোধ জানান। সমপ্রতি বন্ড কমিশনারেট বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার আওতায় রয়েছে এমন রপ্তানিমুখী কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম খুঁজে পায়। বন্ড লাইসেন্সধারীরা (কারখানা) শুল্ক সুবিধায় আনা কাঁচামাল বা ওই কাঁচামাল দিয়ে উত্পাদিত পণ্য রপ্তানি করতে ব্যর্থ হলে বা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে তাদের সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। সেই হিসেবে এসব কারখানার কাছে ৩৩৯ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা হয় সরকার।
কাঁচামাল আমদানি হয় এমন বন্ড লাইসেন্সধারী কারখানার সংখ্যা প্রায় সোয়া ৬ হাজার। এসব কারখনার বেশিরভাগই গার্মেন্টস খাত সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার সচল থাকলেও বাদবাকী কারখানা চালু নেই। গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র একজন নেতা ইত্তেফাককে বলেন, লাইসেন্স বাতিল বা ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক সময় শর্তের সামান্য এদিক-ওদিক হলেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি বলেন, নানামুখী কারণে রপ্তানিকারক বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য রপ্তানি করতে ব্যর্থ হন। এক্ষেত্রে তার পণ্য স্টকলট হয়ে যায়। অথবা অন্য কোন আমদানিকারকের কাছে বিক্রি করতে হয়। আবার কাগজপত্র যথাসময়ে না দিতে পারলে বা সেখানে ছোটখাটো ত্রুটির কারণেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়।