ভূমি অফিসে নাশকতাকারীদের ভূমি-অধিকার থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

  
                                                                                         
 
 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভূমি অফিসে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের বাংলাদেশের ভূমির ওপর কোনো অধিকার থাকবে না। ওই সব অপরাধীর তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তিতেও কোনো অধিকার থাকবে না। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় থাকতে পারবে না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেব। ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগকারীদের যেভাবেই হোক খুঁজে বের করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল, যাদের নামের সাথে ইসলাম শব্দ যুক্ত আছে এবং তাদের দোসর বিএনপি মিলে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে—এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। তাদের এই নৃশংসতা থেকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, শিশু, যানবাহন, পশু ও মুরগি বহনকারী যানবাহনও রক্ষা পাচ্ছে না। অতীতে তারা আমাকেও হত্যা করার জন্য বহু বার চেষ্টা চালিয়েছে। এটা দুঃখজনক যে, বাংলাদেশ যখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হরতাল-অবরোধের নামে তারা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড করছে। দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে অরাজতা সৃষ্টি করছে। বর্তমানে তারা সাধারণ মানুষ হত্যার পাশাপাশি উপজেলায়, জেলায় ভূমি অফিসগুলোতেও আগুন দিচ্ছে। এর অর্থটা কী? দলিলপত্র পুড়িয়ে ফেলার কী রহস্য থাকতে পারে? জনগণের ক্ষতি করার লক্ষ্যে কোনো মানুষ এমন বর্বর কাজ করতে পারে—এটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু তারা এমন কাজই করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিনিয়তই আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তার পরও দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত নই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না, যারা জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে তাদের কোনো ধর্ম নেই, দেশ নেই। জঙ্গিবাদটাই তাদের ধর্ম। এ দেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল, মাওলানা আবুল কালাম প্রমুখ।